সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক ওসি রাকিবুল আবার রিমান্ডে

>> শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্তব্য, ছাত্রশক্তির নেতা বহিষ্কার

>> স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ নাহিদ ইসলামের

>> সরকারি বাধার মধ্যেও দেশব্যাপী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালিত

>> সাম্প্রতিক ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন, সরকারের অবস্থান কী

>> ইউনূস পুরো একটা প্রজন্মকে বেয়াদব বানিয়ে রেখে গেছে -সোহেল হায়দার চৌধুরী

>> ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামিকে আইনি সহায়তা না দেওয়ার ঘোষণা

>> নওগাঁয় বাসচালককে মারধরের প্রতিবাদে বাস চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

>> পুলিশ দেখে কেক ও মোটরসাইকেল ফেলে পালালেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা

>> ওসমান হাদি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় আবারও বাড়ল

আপনি পড়ছেন : জাতীয়

দেড় ডিগ্রি উষ্ণতা বাড়লেই বড় বিপদের মুখে পৃথিবী


Rabeya ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:২৯



দেড় ডিগ্রি উষ্ণতা বাড়লেই বড় বিপদের মুখে পৃথিবী


বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ে নতুন করে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ার সীমা আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সীমা ছাড়িয়ে গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের কিছু ক্ষতি স্থায়ী হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির ‘লিমিটিং ওভারশুট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে। বাড়তে পারে তীব্র তাপপ্রবাহ, বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি। একই সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ছোট ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি। জনসংখ্যার চাপ, আয়বৈষম্য এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ঘাটতির কারণে এই অঞ্চলের দেশগুলো সংকট মোকাবিলায় বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

অথচ ঐতিহাসিকভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবদান তুলনামূলকভাবে কম। তারপরও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির বড় অংশ এই অঞ্চলের মানুষকে বহন করতে হচ্ছে।

তাপমাত্রা কমিয়ে আনা গেলেও জলবায়ুর কিছু পরিবর্তন দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরবে না। বিশেষ করে হিমবাহ গলে যাওয়ার পর তা পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। একইভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাবও তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে দূর হবে না।

জীববৈচিত্র্যের ক্ষতিও বড় উদ্বেগের বিষয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কোনো প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেলে সেটিকে প্রাকৃতিকভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কৃষি ও মানুষের জীবন-জীবিকাতেও এর প্রভাব পড়ছে। খরা, বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগের কারণে অনেক মানুষকে জীবিকা পরিবর্তন কিংবা স্থানান্তরের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও সামনে আনছেন। তাদের মতে, অতীতে যেসব দেশ বেশি পরিমাণে কার্বন নিঃসরণ করেছে, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তাদের দায়িত্বও তুলনামূলকভাবে বেশি।

জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু পরিবেশের সমস্যা নয়; এটি মানুষের জীবন, খাদ্যনিরাপত্তা, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। তাই বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।