বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন একটি চুক্তির অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত ও ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর।
রোববার রাতে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সার্জিও গর জানান, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে একটি নতুন চুক্তি হয়েছে।
তবে নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশ ঠিক কতটি উড়োজাহাজ কিনবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি তিনি।
সার্জিও গর জানান, নতুন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কিনতে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাঁর দাবি, আগের অর্ডারের তুলনায় নতুন কেনাকাটার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়। এর আগে বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে ২৫টি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর চলতি বছরের এপ্রিলে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
চুক্তি অনুযায়ী, এসব উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।
এপ্রিলের চুক্তিতে নির্ধারিত ১৪টি উড়োজাহাজের বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
চুক্তির সময়সূচি অনুযায়ী, বোয়িংয়ের প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা। পর্যায়ক্রমে বাকি উড়োজাহাজগুলোও যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে এসব উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করা হয়েছিল।
গত ৩০ জুলাই তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন সার্জিও গর। সফরের শেষ দিনে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
ঢাকা ছাড়ার আগে দেওয়া এক্স পোস্টে তিনি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে অংশীদারত্ব জোরদারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান।
নতুন বোয়িং কেনার ঘোষণা সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সামনে এসেছে।
তবে নতুন করে কতটি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা হবে এবং সেগুলোর ধরন ও সরবরাহের সময়সূচি কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।