রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> অপ্রতিম হত্যা: ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজনরা গ্রেপ্তার, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

>> অপ্রতিমের অকালপ্রয়াণ: আমাদের শিশুদের এমন করুণ পথ কে গড়ে দিল

>> অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় মামলা, তিনজন আটক

>> রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আজ মতবিনিময়, অংশ নিচ্ছে না বিরোধীরা

>> ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের’ রায় প্রত্যাখ্যানের দাবি, ২০ সেপ্টেম্বরের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিতে একাত্ম ঢাকা মহানগর উত্তর আ.লীগের

>> ব্রাইট স্টারের সংবর্ধনায় মেধাবীদের মিলনমেলা, উৎসবমুখর দামুড়হুদা শিল্পকলা অডিটোরিয়াম

>> আজ আন্তর্জাতিক চাঁদ পর্যবেক্ষণ রাত

>> লোডশেডিং নিয়ে ফেসবুকে ভিডিও, প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে তরুণ আটক

>> ভুল করে ভারতে ঢুকে পড়া রাজশাহীর ৫ ব্যবসায়ী ১১ দিন পর দেশে ফিরলেন

>> কাশিমপুর কারাগার থেকে পালানো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার

আপনি পড়ছেন : জাতীয়

পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগে কেন দেরি, কীভাবে হয় চেয়ারম্যান নির্বাচন


Rabeya ৩১ আগস্ট ২০২৬, সকাল ১১:০৯



পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগে কেন দেরি, কীভাবে হয় চেয়ারম্যান নির্বাচন


বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এখনো নতুন চেয়ারম্যান পায়নি। বিদায়ী চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম পদত্যাগ করার পর প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।

প্রশাসন ও পিএসসি-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক অভিজ্ঞ আমলাকে বেছে নেওয়া হবে, নাকি বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞ কোনো শিক্ষাবিদকে দায়িত্ব দেওয়া হবে—এ নিয়ে মতভেদ থাকায় সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগছে।

আমলা নাকি শিক্ষাবিদ?

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি অংশ মনে করছে, প্রশাসনিক কাঠামো এবং বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের কাজের ধরন সম্পর্কে একজন সাবেক আমলার বাস্তব অভিজ্ঞতা বেশি থাকায় তিনি পিএসসি পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।

অন্যদিকে পিএসসি-সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ মনে করছে, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাবিদ নেতৃত্বের অধীনে কমিশনের কার্যক্রমে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমের দায়িত্বকালে পরীক্ষা-জট কমানো, বিসিএসের ফল দ্রুত প্রকাশ এবং ‘এক বছরে এক বিসিএস’ রোডম্যাপ বাস্তবায়নের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এ ছাড়া লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে সার্কুলার ইভালুয়েশন, মৌখিক পরীক্ষায় দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন এবং নিজস্ব ডিজিটাল প্রেসে প্রশ্নপত্র ছাপানোর মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল। তবে বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নে বানান ভুল নিয়ে সমালোচনাও হয়েছিল।

সংবিধান কী বলছে?

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সরকারি কর্ম কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগের বিষয়টি সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে।

বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে পিএসসির চেয়ারম্যান নিয়োগ দেন। ফলে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ এবং রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক নিয়োগ—দুই ধাপই গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়োগপ্রক্রিয়া যেভাবে এগোয়

রাষ্ট্রপতির দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রচলিত প্রক্রিয়ায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করে। এরপর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তালিকাটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রক্রিয়া শেষে সুপারিশ বা তালিকা রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পৌঁছানোর কথা। এরপর সংবিধান ও আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেন।

তবে সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখনো কোনো সুপারিশ বা সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পৌঁছেনি বলে জানানো হয়েছে।

চেয়ারম্যান পদে শূন্যতার প্রভাব

মোবাশ্বের মোনেমের পদত্যাগের পর পিএসসির সাময়িক দায়িত্বে আছেন জ্যেষ্ঠ সদস্য নাজমুল আমীন মজুমদার। তাঁর নেতৃত্বেই কমিশনের নিয়মিত কার্যক্রম চলছে।

এদিকে ৫০তম বিসিএসের ভাইভাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতিও চলছে।

চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, বিসিএসের পরীক্ষা ও ফল প্রকাশে সাম্প্রতিক যে গতি তৈরি হয়েছে, তা যেন নতুন নেতৃত্বের কারণে ব্যাহত না হয়। বিশেষ করে ‘এক বছরে এক বিসিএস’-এর মতো সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে দ্রুত একজন দক্ষ, নিরপেক্ষ ও যোগ্য চেয়ারম্যান নিয়োগের দাবি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি আমলা না শিক্ষাবিদ—এটি একমাত্র বিবেচ্য হওয়া উচিত নয়। তাঁর স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা, নৈতিক দৃঢ়তা এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের বাইরে থেকে কাজ করার যোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ পিএসসির দায়িত্ব শুধু বিসিএস পরীক্ষা আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের ভবিষ্যৎ প্রশাসনের জন্য যোগ্য ও মেধাবী জনবল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।