এক শোকবার্তায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি মো. আয়মান হোসেন অপু বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতি, মুক্তচিন্তা ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের ওপর এক ভয়াবহ আঘাত। এই নৃশংস হামলায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে চালানো ওই ভয়াবহ হামলায় নিহত শহীদদের স্মৃতির প্রতি বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু গেরিলা সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। একইসঙ্গে হামলায় আহত হয়ে যারা আজও শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন এবং পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, তাদের প্রতিও গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
শোকবার্তায় তিনি আরও বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি ন্যাক্কারজনক অধ্যায়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনোই সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড কিংবা সন্ত্রাসের কারণ হতে পারে না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
মো. আয়মান হোসেন অপু বলেন, ইতিহাসের এই কালো অধ্যায় থেকে জাতিকে শিক্ষা নিতে হবে। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাস ও সহিংসতার রাজনীতি পরিহার করে একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু গেরিলা সংগঠন সবসময় অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও আদর্শিক বাংলাদেশের পক্ষে সোচ্চার থাকবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা ও ষড়যন্ত্র যাতে আর দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
২১ আগস্টের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানুষের ন্যায়সংগত অধিকার রক্ষায় সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবেন।
শোকবার্তায় তিনি আরও বলেন, “আসুন, রাজনৈতিক ভেদাভেদ ও হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষায় আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি। ২১ আগস্টের শহীদদের পবিত্র রক্ত যেন বৃথা না যায়—এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।”
সবশেষে তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।