মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২৬
২১ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ওসমানী উদ্যানের অবকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন, প্রতিমন্ত্রী বললেন—‘পৃথিবীর কোথাও এমন দেখিনি’

>> ছেলের পর বাবাও খুন, আতঙ্কে পরিবার—‘মামলা করব না, পুলিশ যা করার করবে’

>> পটুয়াখালীতে বনের গাছ কেটে জমি দখলের অভিযোগ, বন বিভাগের জিডি

>> ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪২, মুচলেকায় মুক্ত

>> ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নতুন নির্দেশনা আইভ্যাকের

>> ফেসবুক পোস্টের জন্য মৃত্যুদণ্ড, ছেলেকে ক্ষমার আবেদন মায়ের

>> আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন অসম্ভব নয়

>> কমিশন বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ: বিআরটিসির ডিজিএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

>> বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা, ৯ এলাকায় বাতাস খুবই অস্বাস্থ্যকর

>> ‘মক্কা চুক্তি’ কার্যকর, সৌদি আরবে সেনা মোতায়েনে সম্মত তুরস্ক ও পাকিস্তান

আপনি পড়ছেন : পটুয়াখালী

‘১১৫০ টাকার কাজে ৭০ হাজার কেন’—ভিডিও ছড়ানোর পর তহশিলদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ


Rabeya ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৩৫



‘১১৫০ টাকার কাজে ৭০ হাজার কেন’—ভিডিও ছড়ানোর পর তহশিলদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ


পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক তহশিলদারের বিরুদ্ধে জমির নামজারি ও খতিয়ান খোলার জন্য সরকারি ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ওই কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত তহশিলদারের নাম মোহাম্মদ আবদুস সোবাহান। তিনি চরমোন্তাজ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চারটি পৃথক দলিলের জমি নামজারি বা নতুন খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একজন সেবাগ্রহীতার কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করছেন আবদুস সোবাহান। তখন ওই ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, সরকারি ফি যেখানে ১ হাজার ১৫০ টাকা, সেখানে এত টাকা কেন প্রয়োজন। জবাবে তহশিলদার সার্ভেয়ার-কানুনগোসহ বিভিন্ন দপ্তরের একাধিক টেবিলের খরচের কথা উল্লেখ করেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, পরে দুটি দলিলের জমি একটি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ২০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। এর মধ্যে ১০ হাজার টাকা নগদ দেওয়া হয়। বাকি টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেওয়ার প্রস্তাব করা হলেও তহশিলদার হাতে হাতে টাকা নেওয়ার কথা বলেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।

অভিযোগকারী মহিউদ্দিন খন্দকারের ভাষ্য, চারটি দলিলের জমি একই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি ভূমি অফিসে যান। তাঁর কাছে সরকারি নির্ধারিত ফির পরিবর্তে প্রথমে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় কাজ করার কথা হয় এবং তিনি ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দেন।

মহিউদ্দিনের দাবি, কয়েক মাস ধরে তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানির পর চারটি দলিলের মধ্যে দুটি দলিল বাদ দিয়ে বাকি দুটি দলিলের জমি একটি খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি সরকারি ফি হিসেবে ১ হাজার ১৫০ টাকা পরিশোধের জন্যও তাঁকে বলা হয়।

জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখার তথ্য অনুযায়ী, জমির মালিকানা পরিবর্তনের পর সরকারি রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত বা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়াকে নামজারি বা মিউটেশন বলা হয়। এ সেবার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ১ হাজার ১৫০ টাকা।

তবে ঘুষ বা অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তহশিলদার মোহাম্মদ আবদুস সোবাহান। তাঁর দাবি, মহিউদ্দিন খন্দকার তাঁর কাছে আসেননি এবং জমি-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রও তাঁর কাছে জমা দেননি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নজরে আসার পর আবদুস সোবাহানের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।