মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> জমিতে ছিটানো কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়েছিল শিক্ষার্থীরা

>> ফেরেশতাদের সৃষ্টি কেন ও কীভাবে?

>> হাজতখানায় কেক কাটার অভিযোগ অস্বীকার জিয়াউল আহসানের আইনজীবীর, ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ অভিযোগ

>> মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে মাদকসহ দুই পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

>> সুগন্ধি চাল রপ্তানির কোটা ৫০ শতাংশ কমাল সরকার

>> প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, সীতাকুণ্ডে তিনজন গ্রেপ্তার; উদ্ধার হয়নি ব্যবহৃত অস্ত্র

>> সরকারি অফিসে যাতায়াত কমলেই দুর্নীতি কমবে: অর্থমন্ত্রী

>> ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, চিকিৎসককে হত্যার হুমকি

>> জার্মান সরকারের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশের শাকিল সৈয়দ

>> ২০২৭ সালে কিছুটা স্বস্তি, ২০২৮-এ আরও স্বস্তি, ২০৩০-এ জ্বালানিসংকটমুক্তির লক্ষ্য

আপনি পড়ছেন : নোয়াখালী

জমিতে ছিটানো কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়েছিল শিক্ষার্থীরা


Rabeya ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৪:১৪



জমিতে ছিটানো কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়েছিল শিক্ষার্থীরা


নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে ১৮ শিক্ষার্থীর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া ও কয়েকজনের জ্ঞান হারানোর ঘটনার কারণ শনাক্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মেডিক্যাল টিম। বিদ্যালয়ের পাশের জমিতে অতিরিক্ত মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগের পর বাতাসে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত বাষ্পের কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি দল বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে। পরিদর্শনের সময় বিদ্যালয়ের পশ্চিম-উত্তর পাশে থাকা একটি জমিতে আগের দিন কীটনাশক ছিটানোর তথ্য পাওয়া যায়।

বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে কীটনাশকের গন্ধ

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল জানান, সোমবার দুপুরের আগে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে ওই জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছিল। জমিটি বিদ্যালয়ের খুব কাছাকাছি হওয়ায় কীটনাশকের তীব্র গন্ধ ও বিষাক্ত বাষ্প বাতাসের সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে বলে তদন্তে ধারণা করা হয়েছে।

কৃষকের কাছ থেকে পাওয়া কীটনাশকের বোতল পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেটিতে তীব্র গন্ধ বা সংস্পর্শে মাথা ঘোরা, বমি ভাব, অস্থিরতা এবং চেতনা হারানোর মতো শারীরিক প্রতিক্রিয়ার সতর্কতা উল্লেখ ছিল।

ইউএনও বলেন, তদন্তের পর কীটনাশকের বিষাক্ত ঘ্রাণকেই শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত কীটনাশকের বোতলসহ প্রয়োজনীয় আলামত জব্দ করা হয়েছে।

১৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি ১৩

সোমবার বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ১৮ শিক্ষার্থী মাথা ঘোরা, বমি ভাব ও অস্থিরতা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাদের মধ্যে ১৩ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসা নেওয়ার পর রাতে ওই ১৩ শিক্ষার্থীকে বাড়িতে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার তারা সবাই সুস্থ অবস্থায় বিদ্যালয়ে ফিরে ক্লাসে অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, আকস্মিক ঘটনায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। পরে প্রশাসন ও চিকিৎসকদের তদন্তে ঘটনার কারণ স্পষ্ট হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।

বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে বলেও জানান তিনি।

কীটনাশক ব্যবহারে প্রশাসনের নতুন নির্দেশনা

ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে বিদ্যালয়ের আশপাশে কীটনাশক ব্যবহারে সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদ্যালয় চলাকালীন এর সীমানা বা আশপাশে কোনো ধরনের কীটনাশক স্প্রে করা যাবে না। বিদ্যালয়ের আশপাশে কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হলে তা শুধু ছুটির দিন শুক্র বা শনিবার করতে হবে।

এ ছাড়া অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী বা ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক ব্যবহারের আগে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে এর ক্ষতিকর প্রভাব যাচাই করে প্রয়োজনীয় অনুমতি বা প্রত্যয়ন নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার পর ঘটনাটিকে গণমনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা বা ‘গণহিস্টিরিয়া’ হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শেখ মাহমুদুর রহমান। তবে পরবর্তী তদন্তে বিদ্যালয়ের পাশের জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশকের বিষাক্ত বাষ্পকেই অসুস্থতার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।