গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ধাঁধার চর মৌজায় ৪৫ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২৩৯ দশমিক ৫৭ একর খাসজমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। প্রকল্পটির উদ্যোক্তা সাননোভা এনার্জি ওপিসি। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক কামাল জামান মোল্লা বিএনপির সাবেক নেতা।
জেলা প্রশাসনের কাছে দেওয়া আবেদনে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য খাসজমি বন্দোবস্ত চাওয়া হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন এবং দেশের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে প্রস্তাবিত জমির একটি বড় অংশ নদী, নাল ও অন্যান্য শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২৩৯ দশমিক ৫৭ একর জমির মধ্যে ৩০ দশমিক ৯৫ একর নদী শ্রেণির, ১৩ দশমিক ৫৩ একর বালুচর, ৪৩ দশমিক ৬ একর সিকস্তি এবং ১৫২ দশমিক ৪৪ একর নাল শ্রেণির জমি।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের অকৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালা অনুযায়ী, জনগণের ব্যবহার্য নদী, খাল, নালা, পুকুর, রাস্তা, কবরস্থান, পার্ক, খেলার মাঠসহ নির্দিষ্ট কিছু জমি বন্দোবস্তের আওতায় না রাখার কথা বলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হলে ধাঁধার চরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাঁদের মতে, নদীর মাঝখানে অবস্থিত সবুজে ঘেরা এই চরটি পর্যটন ও প্রকৃতি পর্যবেক্ষণকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।
ধাঁধার চর শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্র নদের মিলনস্থলের কাছে অবস্থিত। সরেজমিনে সেখানে গাছপালা, ঝোপঝাড়, লতাগুল্ম ও কৃষিজমি দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির পাখির উপস্থিতিও রয়েছে।
প্রকল্পটির পরিচালক কামাল জামান মোল্লা বলেন, সেখানে স্বয়ংক্রিয় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রিসোর্ট ধরনের কিছু করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তাঁর দাবি, নদী বা কৃষিজমি ইজারার জন্য তাঁরা আবেদন করেননি; পরিত্যক্ত খাসজমির জন্য আবেদন করা হয়েছে।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, নদীর জমি ইজারা দেওয়া উচিত নয়। জমি পড়ে থাকলেও তা ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গাজীপুরের পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেনের দাবি, ধাঁধার চরে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ, দেশীয় উদ্ভিদ ও লতাগুল্ম রয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হলে এসব জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূইয়া বলেন, ধাঁধার চরে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি ইজারা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে জমি ইজারা দেওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।