পশ্চিমবঙ্গে সন্দেহজনক নাগরিকত্বের অভিযোগে বাংলাভাষী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে হয়রানি এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই সীমান্তের ওপারে পাঠানোর অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
মানবাধিকারকর্মীদের দাবি, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে যথাযথ তদন্ত, তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কেবল ভাষা, দারিদ্র্য বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তারা মনে করছে।
তাদের অভিযোগ, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে বাঙালি মুসলিমদের প্রশাসনিক ও পুলিশি নজরদারি বেড়েছে। উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই অনেকের বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিক হওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ ধরনের অভিযোগের পর কাউকে তাঁর আইনি অধিকার প্রয়োগের সুযোগ না দিয়ে সীমান্তের ওপারে পাঠানো হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ ‘মাসুম’ ও ‘প্যাকটি’। সংগঠন দুটি রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ডাবলু শেখ ও তাঁর তিন সন্তানকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া বাংলাদেশে পাঠানো হয়ে থাকলে তাঁদের নিরাপদে ভারতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁদের আটক ও সীমান্ত পার করার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, তা নিরপেক্ষ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ জন্য পুলিশের অনুসন্ধান প্রতিবেদন, এফআরআরওর নির্দেশপত্র, বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের নথি এবং বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের রেকর্ড প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনগুলো।
পাশাপাশি সুতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জঙ্গিপুর জেলার পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। কোনো ভারতীয় নাগরিককে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে বেআইনিভাবে আটক বা বিতাড়নের ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
সবশেষে ডাবলু শেখ ও তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিনের ভোটার তালিকায় থাকা তথ্যসহ অন্যান্য দেওয়ানি নথি নিরপেক্ষভাবে পুনরায় যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।