রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠুকে মারধর এবং দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিড়ি ব্যবসায়ী জিকুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মিঠুসহ তিনজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জিকুর পাল্টা দাবি, ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা আগেই তাঁকে মারধর করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে গঙ্গাচড়া উপজেলার শেখপাড়া বাজারে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিএনপি নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় মীর কাসেম মিঠু, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদসহ তিনজন আহত হন। এ সময় কার্যালয়ের চেয়ার এবং বেগম খালেদা জিয়া, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবিও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
মীর কাসেম মিঠু জানান, পাশের এলাকার একটি তালাকসংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য তিনি দলীয় কার্যালয়ে বসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে আরও চারজন ছিলেন। মীমাংসার জন্য রাখা ১০ লাখ টাকাও তাঁর কাছে ছিল বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে জিকুসহ ১৫ থেকে ২০ জন সেখানে এসে তাঁর শার্টের কলার ধরে এবং পরে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন মিঠু। তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা সেখান থেকে চলে যান বলেও জানান তিনি।
মিঠুর অভিযোগ, হামলাকারীরা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে তাঁর ওপর হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিকু। তাঁর দাবি, ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা আগে গজঘণ্টা বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তাঁকে মারধর করা হয়। এ সময় সেখানে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
জিকু অভিযোগ করেন, মিঠুর ঘনিষ্ঠ স্টার আকিজ বিড়ির মালিক আব্দুল মাবুদ সরকার ও দুলাল মেম্বারকে দিয়ে তাঁকে মারধর করানো হয়েছে। পরে শেখপাড়া বাজারে গিয়ে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে মিঠুকে দেখতে পান তিনি। সেখানে দুজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয় বলে দাবি করেন জিকু।
তিনি বলেন, “সত্য যেটা, ফাঁসি হলেও আমি সেটা বলব। তার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। তার রক্ত বের হয়েছে হয়তো। আর কাউকে মারধর করা হয়নি।”
দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও অস্বীকার করেন জিকু। তাঁর দাবি, বিএনপি কার্যালয়ে তিনি কোনো হামলা করেননি; বরং মিঠুর লোকজনই সেখানে ভাঙচুর করেছেন।
ব্যবসায়িক বিরোধের বিষয়ে জিকু জানান, তিনি হারাগাছ পৌরসভার মেসার্স ফ্রেশ বিড়ি ফ্যাক্টরির মালিক। তাঁর দাবি, প্রায় চার বছর আগে ঢাকায় বিড়ি ফ্যাক্টরি মালিক সমিতির এক বৈঠকে প্রতি প্যাকেট বিড়ির দাম ১৮ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরে তাঁদের অনুরোধে দাম ১৫ টাকা করা হয়। কিন্তু আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরির মালিক ও বিএনপি নেতা মীর কাসেম মিঠু প্রতি প্যাকেট বিড়ি ১০ টাকায় বিক্রি করছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তাঁর ব্যবসায় লোকসান হচ্ছিল এবং এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে দাবি জিকুর।
রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অ্যাম্বুলেন্সে আহতদের তোলা হচ্ছে। আশপাশে পুলিশ অবস্থান করছিল। কার্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে বিএনপির নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় ছিল। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতারাও সেখানে উপস্থিত হন।
ঘটনাস্থলের পাশের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনার সময় তিনি পাশের মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। অজু করার সময় চিৎকার শুনে সেখানে এসে মারধর ও ভাঙচুরের চিহ্ন দেখতে পান। তবে হামলাকারীদের কাউকে তিনি দেখেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো ঘটনা সর্বোচ্চ দুই মিনিটের মধ্যে ঘটে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য মোকাররম হোসেন সুজন সাংবাদিকদের বলেন, ব্যক্তিগত বিরোধ থাকতে পারে, তবে দলীয় কার্যালয়ে হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।