সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এমপি গাজী নজরুলের শাস্তির দাবিতে শ্যামনগরে বিক্ষোভ

>> নারায়ণগঞ্জে লোকালয়ে কুমির, কীভাবে এল জানেন না কেউ

>> ‘বন্ধুর লাশ নিয়ে হাসপাতালে আছি, সে আর ফোন ধরবে না’

>> গরমে শ্রমিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ, চার বছরেই উঠে আসতে পারে খরচ

>> জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

>> লিটারে ২০ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পাম্পে ভিড়, ক্ষোভ গ্রাহকদের

>> ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করতে চায় সংবিধান সংশোধন কমিটি: সালাহউদ্দিন আহমদ

>> কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারাল বাংলাদেশ

>> কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করলেই বলছেন, ‘আমি কিছু জানি না’

>> মাঝপথে সংবিধান সংশোধন কমিটির সভা বর্জন করল রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

আপনি পড়ছেন : চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে নতুন সেতু নির্মাণে বাধা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে


Rabeya ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:২২



চট্টগ্রামে নতুন সেতু নির্মাণে বাধা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে


চট্টগ্রাম নগরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম দেওয়ানহাট সেতু দীর্ঘদিনের ব্যবহারে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পাশে থাকা দেওয়ানহাট ওভারপাস ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারণে নতুন সেতুর জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাম্প্রতিক জরিপে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, রেললাইনের ওপর নির্মিত নতুন সেতুর উচ্চতা রেলওয়ের বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী অন্তত সাড়ে আট মিটার হতে হবে। বর্তমানে দেওয়ানহাট সেতুর উচ্চতা প্রায় সাড়ে পাঁচ মিটার। উচ্চতা বাড়াতে হলে সেতুটির দৈর্ঘ্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে।

বর্তমান সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০ মিটার। নিয়ম মেনে নতুন সেতু নির্মাণ করতে হলে সেটি প্রায় ১৬০ মিটার পর্যন্ত বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সেতুর এক পাশে দেওয়ানহাট ওভারপাস এবং তার ওপর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থাকায় এতটা জায়গা বাড়ানো সম্ভব নয়।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের ওপর দেওয়ানহাট সেতুটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে প্রায় ৬০ ফুট প্রশস্ত এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন আনুমানিক ৭৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে।

দীর্ঘদিনের ব্যবহারে সেতুটির বিভিন্ন অংশে ফাটল, কংক্রিট খসে পড়া, রডে ক্ষয় এবং ডেকের নিচে রড বেরিয়ে আসার মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সেতুর ওপর বাড়তি চাপও তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি সেতুর বিয়ারিং ও এক্সপ্যানশন জয়েন্টে ত্রুটি দেখা দিয়েছে।

নতুন সেতু নির্মাণের বিষয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান জায়গায় নতুন সেতু নির্মাণ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে নতুন সেতু যুক্ত করা এবং দীর্ঘ লুপসহ বিকল্প নকশার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনার সঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতা রয়েছে।

এ অবস্থায় পুরোনো সেতুটিকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে সিটি করপোরেশন। প্রকৌশলীদের মতে, রেট্রোফিটিং করা হলে সেতুটির ভার বহনের সক্ষমতা প্রায় ৪৫ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে এর ব্যবহারযোগ্য আয়ু আরও ২৫ থেকে ৩০ বছর বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান বলেন, এক্সপ্রেসওয়ে ও ওভারপাসের কারণে প্রচলিত নকশায় নতুন সেতু নির্মাণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই বর্তমানে বিদ্যমান সেতু শক্তিশালী করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের অভিযোগ, দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবেই এ ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, দেওয়ানহাট সেতুর ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী অবকাঠামোগুলোর নকশা করা হলে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব ছিল।