রবিবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬
২২ ভাদ্র ১৪৩৩

আপনি পড়ছেন : শিক্ষা

১৭ বছর ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়েই চলছে কলেজ শাখা


Rabeya ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:১৮



১৭ বছর ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়েই চলছে কলেজ শাখা


সিলেটের সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকসংকটে ব্যাহত হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদান। কলেজ শাখায় পাঠদান শুরুর পর প্রায় ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সেখানে কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে বিদ্যালয় শাখার শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কলেজের ছাত্রীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, কলেজ শাখার জন্য আলাদা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদই সৃষ্টি করা হয়নি। বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে কলেজের প্রশাসনিক ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

বর্তমানে বিদ্যালয় শাখায় প্রায় ১ হাজার ৮৬৭ জন ছাত্রী পড়াশোনা করছে। কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ মিলিয়ে প্রায় ২৯৬ জন ছাত্রী রয়েছে। একাদশ শ্রেণিতে আরও প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার কথা রয়েছে। বিদ্যালয় শাখায় ৪৮ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও দুটি পদ শূন্য রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জায়েদা গুলশান সিদ্দিকা জানান, কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক না থাকায় পাঠদানে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর শিক্ষকদের দিয়েই কলেজের ক্লাস চালানো হচ্ছে।

সহকারী প্রধান শিক্ষক ছালেহ আহমদের ভাষ্য, নিয়মিত রুটিনের পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষককে কলেজ পর্যায়ে অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়। এতে শিক্ষকদের কিছুটা চাপ তৈরি হলেও তাঁরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

বাড়তি ক্লাসে চাপে শিক্ষক

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাধ্যমিকের নির্ধারিত ক্লাসের পাশাপাশি কলেজের পাঠদানের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাঁদের। ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক ইশতিয়াক হোসেন মুনশি জানান, সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে তাঁকে একাধিক ক্লাস নিতে হয়। এর মধ্যে একটি কলেজ পর্যায়ের ক্লাস। টানা ক্লাসের কারণে পর্যাপ্ত বিরতি পাওয়া যায় না। আবার কলেজের পাঠদানের জন্য আলাদা প্রস্তুতিও নিতে হয়।

শিক্ষকদের মতে, একই সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ক্লাসের প্রস্তুতি নেওয়া সময়সাপেক্ষ। ফলে নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি কলেজের পাঠদান পরিচালনা করা তাঁদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

শিক্ষার্থীদেরও রয়েছে অভিযোগ

কলেজের এক ছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, সিলেটের অন্য সরকারি কলেজগুলোর তুলনায় এখানে প্রতিদিন কমসংখ্যক বিষয়ে ক্লাস হয়। বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাস নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কলেজ শাখায় আলাদা প্রদর্শক না থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়েই ব্যবহারিক ক্লাস করানো হয়। এ ছাড়া বিদ্যালয় পর্যায়ের জন্য ব্যবহৃত বিজ্ঞানাগার উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন মেটাতে যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

ফলাফলেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সিলেট অঞ্চলের পরিচালক মো. দিদার চৌধুরীও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, কলেজ পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই মানসম্মত পাঠদান বাধাগ্রস্ত হয় এবং এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও পড়তে পারে।

তিনি জানান, সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষকসংকটের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে কলেজ শাখা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্বে পরিচালিত হওয়ায় দ্রুত আলাদা শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।