ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভে উত্তাল গাজীপুর। সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। বিক্ষোভকারীদের সরাতে পুলিশ ও বিজিবি অভিযান চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এ ঘটনায় বিজিবির এক সদস্য আহত হয়েছেন। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরাও। ভাঙচুর করা হয়েছে টেলিভিশন সাংবাদিকদের ক্যামেরা।
সোমবার সকাল থেকে গাজীপুরের সফিপুর পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১১টার দিকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা এগিয়ে গেলে উত্তেজনা বাড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এর জবাবে বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল ছুড়লে বিজিবির একজন সদস্য আহত হন।
পরে দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে। সেখানে পুলিশের একাধিক গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা।
এদিকে ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহের সময় সময় টেলিভিশনের প্রতিবেদক ও ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর করা হয় তাদের ক্যামেরা। এর আগেও শ্রমিক আন্দোলন চলাকালে কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গাজীপুরের দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি, জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা মাঠে রয়েছেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।