টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে লৌহজং নদী থেকে ইউনুস আল মোর্শেদ (৪৮) নামে আওয়ামী লীগের এক নেতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ির পাশের বক্সি বাড়ির ঘাট থেকে পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। তার দুই চোখ, বুক ও এক কানে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছে পরিবার।
ইউনুস আল মোর্শেদ মির্জাপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি উপজেলার কাঁঠালিয়া গ্রামের মৃত আমীর হোসেনের ছেলে।
খবর পেয়ে পুলিশ রাত ২টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লৌহজং নদীর বক্সি বাড়ির ঘাটে ধর্মজাল দিয়ে নিয়মিত মাছ ধরতেন মোর্শেদ। শুক্রবার দুপুর থেকে তিনি সেখানে মাছ ধরছিলেন। বিকেল ৩টার দিকে কিছু মাছ পাশের পোষ্টকামুরী গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে দিয়ে আবার ঘাটে ফিরে যান।
সন্ধ্যার পরও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু ফোন না ধরায় তারা ঘাটে গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সেখানে বাঁশের মধ্যে তার শার্ট ও পকেটে থাকা মুঠোফোন পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের সদস্যদের।
পরে মোর্শেদের ছোট ভাই আজাদ নদীতে নেমে খোঁজাখুঁজি করে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মরদেহের দুই চোখ, বুক ও একটি কানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
মোর্শেদের চাচাতো ভাই ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আফজালুর রহমান ছানু জানান, দুই যুগেরও বেশি সময় আগে একই ঘাটে গোসল করতে নেমে ডুবে মারা যান মোর্শেদের বাবা। পরে জাল ফেলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। একই স্থানে দুই সপ্তাহ আগেও এক শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, বুকসমান পানিতে মোর্শেদের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে আঘাতের চিহ্নগুলো কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে এবং মোর্শেদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর স্পষ্ট হবে।