সম্প্রতি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে রিজভী আহমেদ শাবনূরের বিরুদ্ধে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শাবনূরের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং একপর্যায়ে তাদের বিয়েও হয়েছিল।
রিজভীর এসব বক্তব্যের জবাবে শনিবার (৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট প্রকাশ করেন শাবনূর। পোস্টটির শিরোনাম দেন ‘রিজভীর গালগল্প ও অসত্য বয়ান’।
শাবনূর তার পোস্টে রিজভীর বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তার দাবি, সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে রিজভী অতীতে একাধিক সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।
শাবনূরের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালে একটি মামলায় দেওয়া জবানবন্দিতে রিজভী সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা বলেছিলেন। পরে তিনি দেশের বাইরে চলে যান এবং এক পর্যায়ে ভিডিও বার্তায়ও একই ধরনের দাবি করেন।
তবে পরবর্তীতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিজভী ভিন্ন অবস্থান নেন এবং সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন বলে দাবি করেন। সাম্প্রতিক কয়েকটি সাক্ষাৎকারেও তিনি আত্মহত্যার কথাই বলেছেন বলে উল্লেখ করেন শাবনূর।
অভিনেত্রীর দাবি, একই ঘটনা নিয়ে একজন ব্যক্তির বক্তব্য বারবার পরিবর্তিত হলে তার সর্বশেষ বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
রিজভীর সঙ্গে প্রেম ও বিয়ের দাবি প্রসঙ্গে শাবনূর তার বক্তব্যে সরাসরি বলেন, তাদের মধ্যে কখনো এমন কোনো সম্পর্ক ছিল না।
তার দাবি, রিজভী এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি শাবনূরকে ভালোবাসতেন এবং বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। আবার অন্য একটি সাক্ষাৎকারে তিনি শাবনূরকে সাবেক প্রেমিকা দাবি করে ২০১৬ সালে বিয়ে এবং ২০১৮ সালে বিচ্ছেদের কথাও বলেছেন।
এই দুই বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি তুলে ধরে শাবনূর প্রশ্ন করেন, রিজভী দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও কথিত সময়ে তাদের বিয়ে কোথায় বা কীভাবে হয়েছিল।
শাবনূরের ভাষ্য, তিনি ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে যাননি। তাছাড়া ওই সময়ের আগেই তিনি বিবাহিত ছিলেন। তাই রিজভীর করা বিয়ের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভিনেত্রী আরও জানান, রিজভীর সঙ্গে তার কখনো কোনো সম্পর্ক বা ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছিল না এবং তিনি তাকে চিনতেনও না।
সালমান শাহকে শাবনূর ব্ল্যাকমেইল করতেন—রিজভীর এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন অভিনেত্রী।
শাবনূরের দাবি, রিজভীর নাম তিনি সালমান শাহর মৃত্যুর পরই প্রথম জানতে পারেন। ফলে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সম্পর্ক থাকার প্রশ্নই ওঠে না।
সালমান শাহ ও তার স্ত্রীকে নিয়ে পরস্পরের কাছে বিভিন্ন কথা বলা বা কূটনামি করার অভিযোগও অস্বীকার করেন শাবনূর। তার বক্তব্য, এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তার ব্যক্তিগত স্বভাবের সঙ্গে এসবের কোনো মিল নেই।
শাবনূর স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রিজভী আহমেদের সঙ্গে তার কখনো যোগাযোগ ছিল না এবং বর্তমানে কোনো যোগাযোগও নেই।
রিজভীর করা অভিযোগগুলোকে তিনি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বলে উল্লেখ করেছেন।
সালমান শাহর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে মামলা ও আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টিও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেছেন শাবনূর।
তার ধারণা, চলমান আইনি পরিস্থিতির কারণে কেউ কেউ নিজেদের অবস্থান রক্ষা করতে তাকে এবং সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে পারেন।
শাবনূর আবারও দাবি করেছেন, সালমান শাহর মৃত্যু বা কথিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না। সালমানের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, সে বিষয়েও তার কোনো প্রত্যক্ষ ধারণা নেই বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য, সালমান শাহ শুধু সহশিল্পী ছিলেন না; তার কাছে তিনি বড় ভাইয়ের মতো ছিলেন। তার অকালমৃত্যুর ঘটনা এখনো তাকে কষ্ট দেয়।
সবশেষে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বের করতে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান শাবনূর। তার মতে, ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনা উচিত।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যুর পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে।
সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই মৃত্যুটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেছেন।
বছরের পর বছর ধরে চলা এই মতবিরোধের মধ্যেই সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে আইনি তৎপরতা শুরু হয়েছে। ফলে প্রায় তিন দশক আগের ঘটনাটি আবারও দেশটির বিনোদন অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের আলোচনায় উঠে এসেছে।