বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করলেও একসময় অভিনয় জগৎ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে প্রত্যাশিত সুযোগ না পাওয়ায় হতাশ হয়ে তিনি হিমাচল প্রদেশে ফিরে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনাও করেছিলেন।
২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভিকি ডোনার’ সিনেমার মাধ্যমে দর্শকের নজরে আসেন ইয়ামি। তবে সফল অভিষেকের পরও দীর্ঘ সময় নিজের পছন্দের চরিত্র ও বড় সুযোগ না পাওয়ায় কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইয়ামি জানান, ২০১৯ সালে ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ ও ‘বালা’ মুক্তির আগে তিনি প্রায় সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিলেন যে, বলিউড ছেড়ে দেবেন।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, তখন তিনি ভাবছিলেন হিমাচলে ফিরে যাবেন। সেখানে পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে, সেখানেই হয়তো অন্যরকম জীবন শুরু করবেন। এমনকি তার বাবা-মাও তাকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বলেছিলেন।
তবে ভাগ্যের মোড় ঘুরে যায় ঠিক তখনই। ইয়ামি বলেন, যখন তিনি আর ভয় থেকে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার চেষ্টা করছিলেন না, তখনই বড় পরিবর্তন আসে। ‘উরি’ ও ‘বালা’ সিনেমার সাফল্য তার ক্যারিয়ারে নতুন গতি এনে দেয়।
ইয়ামির মতে, ‘ভিকি ডোনার’ সফল হলেও তাকে প্রচলিত নায়িকার কাঠামোয় দেখা হয়নি। ফলে নিজের অভিনয় প্রতিভা দেখানোর মতো সুযোগ পেতে তাকে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে।
বলিউডের স্বজনপ্রীতি প্রসঙ্গেও নিজের অভিজ্ঞতা জানান এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, চলচ্চিত্র পরিবারের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই ব্যর্থ হলেও বারবার সুযোগ পান। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির বাইরের শিল্পীদের প্রতিটি সুযোগের জন্য কঠিন লড়াই করতে হয়।
তার মতে, বাইরের মানুষ হিসেবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বারবার নিজেকে প্রমাণ করা। অনেক সময় প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও সুযোগ অন্য কারও হাতে চলে গেছে—শুধু তারা আগে থেকেই ইন্ডাস্ট্রির অংশ হওয়ার কারণে।
তবে বর্তমান বলিউড নিয়ে আশাবাদী ইয়ামি। তার বিশ্বাস, এখন দর্শক শিল্পীর পারিবারিক পরিচয়ের চেয়ে তার অভিনয় দক্ষতা ও কাজের মানকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
অভিনেত্রী আরও জানান, ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে পক্ষপাতিত্বের কারণে হতাশ হতে হয়েছে তাকে। অনেক সিনেমা নিয়ে আলোচনা হলেও পরে কোনো কারণ ছাড়াই সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। তবে সেই কঠিন সময় অতিক্রম করেই তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন।