রবিবার, নভেম্বর ১, ২০২৬
১৭ কার্তিক ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> বান্দরবানে সাকিব চৌধুরীকে মারধরের অভিযোগ, চোখের নিচে চার সেলাই; বিচারের দাবি পরিবারের

>> রাজশাহী বিআরটিএতে দালাল সিন্ডিকেটের দাপট, ঘুষ ছাড়া মিলছে না সেবা!

>> নদী থেকে আওয়ামী লীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার, শরীরে আঘাতের চিহ্ন

>> ব্যালন ডি’অর ভোটে মেসির সেরা তিনে আলজেরিয়ান তরুণ ইব্রাহিম মাজা

>> শ্রমিক অসন্তোষে আশুলিয়ার ১১ পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা

>> ৯ গুলিবিদ্ধ হওয়ার দাবি করে মামলা, হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

>> ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরিতে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের সন্দেহ

>> রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর অনুমোদন

>> মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড

>> ড. ইউনূস তিন-চার প্রজন্ম নষ্ট করে দিয়েছেন: ফজলুর রহমান

আপনি পড়ছেন : রাজশাহী

রাজশাহী বিআরটিএতে দালাল সিন্ডিকেটের দাপট, ঘুষ ছাড়া মিলছে না সেবা!


Sheikh Mojahidur Rahman ১ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:৫৭
রাজশাহী বিআরটিএতে দালাল সিন্ডিকেটের দাপট, ঘুষ ছাড়া মিলছে না সেবা!

লাইসেন্স, ফিটনেস ও বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ; জিম্মি সাধারণ সেবাগ্রহীতা

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) রাজশাহী কার্যালয়কে ঘিরে দালাল সিন্ডিকেট, ঘুষ লেনদেন ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি, নবায়ন, শ্রেণি পরিবর্তন, স্মার্টকার্ডের বায়োমেট্রিক, গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা এবং নম্বর প্লেট অনুমোদনসহ বিভিন্ন সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

অভিযোগ রয়েছে, কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী, আনসার সদস্য এবং বহিরাগত দালালদের পারস্পরিক যোগসাজশে সেখানে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে উঠেছে। নিয়ম মেনে পরীক্ষা দিয়েও নির্ধারিত অর্থ না দিলে অকৃতকার্য হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেক লাইসেন্সপ্রার্থী। অন্যদিকে অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও লাইসেন্স পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পরীক্ষা দিয়েও পাসের নিশ্চয়তা নেই, অভিযোগ শিক্ষার্থীদের

সরেজমিনে বিআরটিএ রাজশাহী কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বায়োমেট্রিক পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের এক শিক্ষার্থী একটি শোরুমের মাধ্যমে ১২ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে জানা যায়।

অন্যদিকে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমানের অভিজ্ঞতাও একই ধরনের। তিনি জানান, আগেরবার কোনো দালালের সঙ্গে যোগাযোগ না করেই পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে দেওয়ার পরও তাঁকে অকৃতকার্য করা হয় বলে তাঁর অভিযোগ।

সাদমান বলেন, এবারও একই পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, বিআরটিএ ও পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পড়াশোনা শেষ করে একজন শিক্ষার্থী যখন নিয়ম মেনে একটি সাধারণ ড্রাইভিং পরীক্ষায় অংশ নিয়েও হয়রানির শিকার হন, তখন সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?

প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণে, সাদমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রত্যাশিত হয়নি। ঘুষ না দেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি তাঁকে একজন আনসার সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেখা যায়।

লাইসেন্স নবায়নেও অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার অভিযোগ

লাইসেন্স নবায়ন ও শ্রেণি উন্নয়নের কাজে আসা কাটাখালি মাদরাসার এক শিক্ষক অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করলে কাজ সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি জানান, লাইসেন্স নবায়ন ও শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরকারি ফির বাইরে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। তাঁর দাবি, কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলাদা দালাল রয়েছে। টেবিলভিত্তিক অর্থ বণ্টনের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

আনসার ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ

কার্যালয়ে অবস্থানকালে ফিটনেস পরীক্ষার জন্য একটি বাস ভেতরে প্রবেশ করিয়ে কাগজপত্র নিয়ে দ্রুত কর্মকর্তাদের কক্ষে প্রবেশ করতে দেখা যায় পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে বাইরে অপেক্ষা করতে ইঙ্গিত দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে বিরতির কথা বলে অপেক্ষমাণ ব্যক্তিদের সময়ক্ষেপণ করা হয়। ওই ব্যক্তি গাড়ির মালিক নাকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও বিআরটিএর কেউ স্পষ্ট বক্তব্য দেননি। তবে অনুসন্ধানে তাঁর বিরুদ্ধে দালালচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়।

এ ছাড়া একটি মোটরসাইকেলকে অন্য যানবাহন থেকে আলাদা জায়গায় রেখে আনসার সদস্যের মাধ্যমে কর্মকর্তাকে ডেকে আনার ঘটনাও নজরে আসে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা গাড়ি ও কাগজপত্র যাচাই না করেই ফিরে যান। পরে আনসার সদস্য ওই মোটরসাইকেল মালিককে নিজের নিকটাত্মীয় পরিচয় দিয়ে সঙ্গে নিয়ে সরে যান।

কার্যালয়ের ভেতরে প্রভাবশালী কারা?

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও অনুসন্ধানে অফিস সহায়ক আলী এবং আনসার সদস্য নাজমুল, লিটু, রায়হান ও সোহেল হায়দারের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পদমর্যাদায় তুলনামূলক নিচে থাকলেও কার্যালয়ের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমে তাঁদের প্রভাব রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা প্রকৌশলীরা সরাসরি নগদ অর্থ গ্রহণ না করে অধস্তন কর্মচারীদের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থা করে থাকতে পারেন। পরে নির্দিষ্ট নিয়মে বিভিন্ন টেবিলে অর্থ বণ্টন করা হয় বলে তাঁর দাবি। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পরীক্ষাপদ্ধতি নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে লাইসেন্সপ্রার্থীর পরিচয়ে পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ করেন প্রতিবেদক। সেখানে কয়েকটি অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে।

অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থের বিনিময়ে লিখিত পরীক্ষার সময় উত্তর বলে দেওয়া, লার্নার কার্ডে বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার, মৌখিক পরীক্ষায় নির্দিষ্ট প্রার্থীদের পাস করানো এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় দক্ষতা যাচাই ছাড়াই উত্তীর্ণ দেখানোর মতো ঘটনা ঘটে।

এমনকি পরীক্ষায় উপস্থিত না হয়েও অর্থের বিনিময়ে লাইসেন্স পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিপরীতে অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানো প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় অপ্রাসঙ্গিক বা জটিল প্রশ্নের মুখোমুখি করা হয় বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

বাধ্যতামূলক ড্রাগ টেস্ট ছাড়াও অর্থের বিনিময়ে লাইসেন্স পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শুধু লাইসেন্স নয়, গাড়ির ফিটনেস সনদ, মালিকানা পরিবর্তন, নতুন গাড়ির নম্বর প্লেট এবং রুট পারমিট সংগ্রহের ক্ষেত্রেও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ফাইলে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি দেখিয়ে কাজ আটকে রাখা হয়। পরে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়।

ঘুষের নির্ধারিত অঙ্ক নিয়ে যা বলছেন ভুক্তভোগীরা

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে বিভিন্ন সেবার বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থ দাবির যে হিসাব পাওয়া গেছে, তা হলো—

  • গাড়ি ও মোটরসাইকেলের যৌথ লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।
  • প্রিলিমিনারি ও মৌখিক পরীক্ষায় পাস নিশ্চিত করার অভিযোগে প্রায় ৩ হাজার টাকা।
  • পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে ৭ হাজার টাকা।
  • লাইসেন্সের শ্রেণি পরিবর্তন ও নবায়নের ক্ষেত্রে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা।
  • ফিটনেস ও বায়োমেট্রিক অনুমোদনের ক্ষেত্রে গাড়ি ও ব্যক্তিভেদে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

এগুলো অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রতিটি অঙ্কের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

জাতীয় জরিপেও বিআরটিএতে দুর্নীতির চিত্র

‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ অনুযায়ী, বিআরটিএর সেবা নিতে গিয়ে দুর্নীতির শিকার হওয়া খানার হার ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ। গ্রামাঞ্চলে এ হার ৮০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

একই জরিপে বিআরটিএর সেবা নিতে গিয়ে ঘুষের শিকার হওয়া খানার হার জাতীয় পর্যায়ে ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে গ্রামাঞ্চলে ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে হয়রানির অভিজ্ঞতা

রাজশাহীর স্থানীয় সেবাগ্রহীতা আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি ড্রাইভিং লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছে ৭ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ড্রাগ টেস্ট ছাড়াও অর্থের বিনিময়ে কাজ সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। টাকা না দিলে ফাইল এগোয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন, বিআরটিএ কার্যালয়ে দালাল ছাড়া কাজ করানো কঠিন। তিনি নিজেও লাইসেন্সের জন্য ৫ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্যে ‘আলী কাকা’ নামে পরিচিত এক অফিস সহকারীর প্রভাবের বিষয়টি উঠে আসে।

রাজশাহী টিটিসির এক ড্রাইভিং প্রশিক্ষকের অভিযোগ, অর্থ না দিলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে কাজ সম্পন্ন করেন।

টিটিসি থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া একাধিক লাইসেন্সপ্রার্থীও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, গাড়ি চালানো ও নিয়মকানুন সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা থাকা সত্ত্বেও অকৃতকার্য হওয়ার আশঙ্কায় প্রত্যেককে প্রায় ৩ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে কী বলছেন অফিস সহকারী আলী?

অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য ছদ্মবেশে অফিস সহকারী আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে। তবে এ জন্য কত টাকা লাগবে জানতে চাইলে নির্দিষ্ট অঙ্ক না জানিয়ে তিনি বলেন, তখন দেখা যাবে।

অন্যদিকে এক আনসার সদস্যের বক্তব্য, তাঁদের সঙ্গে কাউকে কথা বলতে দেখলেই অনেকে ঘুষ লেনদেনের সন্দেহ করেন। এ কারণে কারও সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার বিআরটিএ কর্মকর্তার, বাড়ানো হবে নজরদারি

সার্বিক অভিযোগের বিষয়ে বিআরটিএ রাজশাহী সার্কেলের সহকারী পরিচালক মো. শাহজামান হক বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো তাঁদের কাছে আসেনি। বর্তমানে অধিকাংশ সেবা অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় কার্যালয়ে এসে ফাইল ঘোরানোর প্রয়োজন নেই। লাইসেন্স নবায়নে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগও তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।

পরীক্ষায় ঘুষ না দিলে অকৃতকার্য করানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরীক্ষার খাতায় কোনো প্রার্থী পাস করলে তাঁকে অকৃতকার্য করার সুযোগ নেই। তবে অকৃতকার্য কাউকে পাস করানোর সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের ঘটনা একেবারেই ঘটে না—এমন নিশ্চয়তাও তিনি দেননি। তাঁর ভাষায়, কিছু ক্ষেত্রে অনিয়ম থাকতে পারে।

নিজের ও অধীনস্থ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে সহকারী পরিচালক বলেন, নিজের বিষয়ে তিনি নিশ্চয়তা দিতে পারবেন, কিন্তু প্রত্যেক কর্মচারীর কার্যক্রম সব সময় তাঁর পক্ষে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়।

কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ঘুষের অর্থ ভাগাভাগির অভিযোগও তিনি নাকচ করেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের অর্থ বণ্টনের কোনো সুযোগ নেই।

ভবিষ্যতে অনিয়ম প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করা হবে এবং কার্যালয়ের কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানো হবে।

প্রশ্ন এখন একটাই—সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত সরকারি সেবা পেতে যদি দালালের দ্বারস্থ হতে হয়, তাহলে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কে?