বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ধানমন্ডির পর মহাখালীতেও আগুন, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ৩ ইউনিট

>> ভোট ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা, পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

>> তেলের দাম আবার ১০০ ডলারের ওপরে, সামনে আরও বাড়ার আশঙ্কা

>> শৈশবে স্বপ্নই ছিল না, সেই রিবাকিনাই এখন বিশ্ব টেনিসের শীর্ষে

>> ঝিনাইদহে আওয়ামী লীগের ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা, পূর্বশত্রুতার সন্দেহ

>> ‘কেউ বাথরুমে যাবেন না’, কেন বললেন ট্রাম্প

>> সিলেটে শিকল বেঁধে তরুণীকে টেনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

>> বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদ, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি

>> হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন চালকবিহীন সাবমেরিন জব্দের দাবি ইরানের

>> জমিতে ছিটানো কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়েছিল শিক্ষার্থীরা

আপনি পড়ছেন : অর্থনীতি

তেলের দাম আবার ১০০ ডলারের ওপরে, সামনে আরও বাড়ার আশঙ্কা


Rabeya ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৫১



তেলের দাম আবার ১০০ ডলারের ওপরে, সামনে আরও বাড়ার আশঙ্কা


বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বাজারে দাম বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০১ ডলারে উঠে যায়। এর আগে বুধবারও দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। জুলাইয়ের পর এবারই প্রথম ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের ঘর অতিক্রম করল।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সেই সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে এই পথে দৈনিক তেল সরবরাহ ২০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে এসেছে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যেও পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তাদের হিসাবে, ২ সেপ্টেম্বরের পর থেকে কোনো অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেনি।

বিকল্প পথে তেল সরবরাহের চেষ্টা

হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমাতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ বিকল্প রুট ব্যবহার করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে ফুজাইরাহ বন্দরে তেল পাঠাচ্ছে। সৌদি আরবও পাইপলাইনের সাহায্যে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের দিকে তেলের প্রবাহ সরিয়ে নিতে পারছে। ইরাকও পাইপলাইনের মাধ্যমে তুরস্ক হয়ে ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় তেল পাঠাচ্ছে।

তবে এসব বিকল্প ব্যবস্থাও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন তেল স্থাপনা ও জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটায় সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

সংঘাত দীর্ঘ হলে বাড়তে পারে দাম

বিশ্লেষকদের বড় উদ্বেগ হলো, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে। ঘাটতি সামাল দিতে বিভিন্ন দেশের মজুত থেকে তেল ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু মজুতও সীমাহীন নয়।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে তেলের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অব্যাহত থাকলে এই মজুত আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে তেলের দামে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

এদিকে বছরের শেষ দিকে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে সরবরাহ সংকটের সঙ্গে চাহিদা বৃদ্ধি যোগ হলে দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।

তবে অন্য একটি পক্ষ মনে করছে, বিশ্ববাজারে এখনো পর্যাপ্ত তেল মজুত ও উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমলে তেলের দাম আবারও কমে আসতে পারে।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত দ্রুত না কমলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের ওপরে আরও কিছু সময় থাকতে পারে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ব্যারেলপ্রতি দাম ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে আরও বাড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।