সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
৯ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> জঙ্গল থেকে মায়ের লাশ উদ্ধারের পাঁচ দিন পর নদে মিলল শিশুসন্তানের মরদেহ

>> নিষেধাজ্ঞায় কি ইরানকে থামানো যাবে? ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’ নিয়ে নতুন বিশ্লেষণ

>> গ্যাস সংকটে টাইলস উৎপাদনে ধস, বাজারে বাড়ছে পণ্যের সংকট

>> ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল বিক্রি ৪১ কোটি টাকায়

>> নারায়ণগঞ্জে আদালত প্রাঙ্গণে হত্যা মামলার আসামিকে মারধর

>> একাদশে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ, আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর

>> পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার পথে রেকারের ধাক্কায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু, চালক গ্রেপ্তার

>> হাসপাতালে রোগীদের খাবারে তেলাপোকা থাকার অভিযোগ, খাবার শুঁকে বিতর্কে বিএনপি নেতা

>> ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকি, তেল রপ্তানি বন্ধের পাল্টা হুঁশিয়ারি

>> ‘টক্সিক’ কি নারীবিদ্বেষী সিনেমা? বিতর্কের জবাব দিলেন যশ

আপনি পড়ছেন : অর্থনীতি

গ্যাস সংকটে টাইলস উৎপাদনে ধস, বাজারে বাড়ছে পণ্যের সংকট


Rabeya ২৪ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৪:৩১



গ্যাস সংকটে টাইলস উৎপাদনে ধস, বাজারে বাড়ছে পণ্যের সংকট


দেশজুড়ে চলমান গ্যাস-সংকটে বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে সিরামিক শিল্প। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় অনেক কারখানার উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও আবার পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে টাইলস উৎপাদন। এতে বাজারে টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যার সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গাজীপুরের শ্রীপুরে গ্রেটওয়াল সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজের টাইলস কারখানা গ্যাস-সংকটের কারণে টানা এক সপ্তাহ ধরে পুরোপুরি বন্ধ। কারখানাটিতে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার বর্গমিটার টাইলস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় অধিকাংশ শ্রমিককে ছুটিতে পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানটির হবিগঞ্জের স্যানিটারিওয়্যার কারখানাতেও উৎপাদন কমেছে। সেখানে কমোড, বেসিনসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে।

গ্রেটওয়াল সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ ইকবাল মাহমুদের ভাষ্য, প্রায় এক মাস ধরে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সাধারণত এক থেকে দেড় মাসের পণ্য মজুত থাকে। কিন্তু উৎপাদন কমে যাওয়ায় এখন চাহিদা অনুযায়ী বাজারে পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শুধু গ্রেটওয়াল নয়, সিরামিক খাতের আরও কয়েকটি কারখানায় একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কাজ চলছে। ফলে ধীরে ধীরে বাজারে টাইলসের সরবরাহও কমছে।

দেশের অন্যতম বড় টাইলস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরএকে সিরামিকের চারটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি গ্যাস-সংকটের কারণে বন্ধ ছিল। টানা আট দিন পর গত শুক্রবার একটি ইউনিট চালু হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন প্রায় ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

গাজীপুরের শ্রীপুরে মীর সিরামিকসের চারটি ইউনিটের মধ্যে তিনটির উৎপাদনও ১৭ দিন ধরে বন্ধ। প্রতিদিন তিন লাখ বর্গফুট টাইলস উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৫০ হাজার বর্গফুট উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় কারখানাটির অধিকাংশ শ্রমিক ছুটিতে রয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জের মেঘনা সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজেও গ্যাস-সংকটে টাইলস উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫১ হাজার বর্গমিটার। বর্তমানে মজুত পণ্য দিয়ে সর্বোচ্চ আরও ১৫ থেকে ২০ দিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহের টার্মিনালে সমস্যার পর থেকেই শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে। একটি টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার, তৈজসপত্র ও সিরামিক ইট উৎপাদনের ৭৬টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে টাইলস উৎপাদনকারী কারখানা ৩১টি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের টাইলসের বাজারের আকার ছিল প্রায় ৫ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা। এর বড় অংশই দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দখলে।

সিরামিক খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, গ্যাস-সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন আরও কমবে। এতে একদিকে দেশীয় কারখানাগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে, অন্যদিকে বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হয়ে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে।

সিরামিক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিসিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুল হাকিমের মতে, বর্তমানে সার্বিকভাবে সিরামিক খাতের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে অনেক কারখানা আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে।

শিল্প উদ্যোক্তারা গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ব্যাংকঋণের কিস্তি সাময়িক স্থগিত, খেলাপি হওয়ার বিধান শিথিল এবং বিভিন্ন ব্যাংক চার্জ কমানোর মতো নীতিসহায়তা দাবি করেছেন।

সারকথা: গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় টাইলস কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমেছে। মজুত পণ্য দিয়ে কিছুদিন বাজার সামাল দেওয়া গেলেও সংকট দীর্ঘ হলে টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যারের সরবরাহে ঘাটতি এবং আমদানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।