ভারতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে আন্দোলনের কৌশল কী হবে, তা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকদের অবস্থানও পর্যবেক্ষণ করছে সরকার।
নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলমান বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ডাকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি ২৩ সেপ্টেম্বর বিরোধী দলগুলোর নেতাদের চিঠি দিয়ে বৈঠকের আহ্বান জানান। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ বিষয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। আগামী সপ্তাহে জোটের বৈঠক হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।
বিরোধী দলগুলোর একটি অংশ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলন জোরদারের পক্ষে। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ভোট বর্জনের প্রস্তাব দিয়েছে। দলটির নেতা অভিজিৎ দিপকের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত ভোটে অংশ নেওয়া এবং একই সঙ্গে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা পরস্পরবিরোধী। তাঁর মতে, কমিশনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে ভোট বর্জনের মতো কঠোর কর্মসূচি বিবেচনা করা উচিত।
তবে বিরোধী জোটের বড় কয়েকটি দল এ অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস ও বাম দলগুলোর নেতাদের একটি অংশ মনে করছে, নির্বাচন বর্জন করলে বিজেপি প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন সুবিধা পেতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, এতে সংসদীয় রাজনীতিতেও বিরোধীদের ভূমিকা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
তামিলনাড়ুর ডিএমকের নেতারাও ভোট বর্জনের প্রস্তাব নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তাঁদের যুক্তি, বিরোধীরা নির্বাচনে না গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই থেকে পিছিয়ে যাওয়ার ধারণা তৈরি হতে পারে।
এদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেও একটি পক্ষ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তিনি পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে নতুন কর্মসূচি শুরুর কথা জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কে বিজেপিবিরোধী বিভিন্ন দলকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা চলছে। তৃণমূল কংগ্রেস ও বাম দলগুলোর নেতারা এ ইস্যুতে কংগ্রেস, ডিএমকে, আম আদমি পার্টিসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।
অন্যদিকে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের কয়েকটি শরিক দলও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্নের ব্যাখ্যা চেয়েছে। লোক জনশক্তি পার্টির নেতা চিরাগ পাসোয়ান, তেলুগু দেশম পার্টির নেতা শ্রীকৃষ্ণ দেভারায়ালু, রাষ্ট্রীয় লোক মঞ্চের উপেন্দ্র কুশাওয়া এবং রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়ার রামদাস আটওয়ালে কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তাঁদের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো—নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যদি সন্দেহ তৈরি হয়, তাহলে কমিশনের উচিত প্রকাশ্যে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করে আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা।
এনডিএর বাইরের দলগুলোর মধ্যেও একই ধরনের আলোচনা চলছে। ওয়াইএসআর কংগ্রেসের নেতা জগনমোহন রেড্ডি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনের সদস্য নিয়োগসংক্রান্ত