ভারতের মণিপুর রাজ্যের কামজং জেলায় মিয়ানমার সীমান্তের কাছে সন্দেহভাজন উগ্রপন্থীদের গুলিতে চার নাগা নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই সময়ে কাংপোকপি জেলার তিনটি গ্রামে প্রায় ৪০টি বাড়ি ও একটি চার্চে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলার কারণে অনেক বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।
কামজং জেলার পিলং গ্রামের কাছে এ হামলায় চারজন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন ফামি জাজো, নিংথেম, বেটারসন জাজো ও ভারেইশিম জাজো।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং বলেন, সমাজে এ ধরনের সহিংসতার কোনো স্থান নেই এবং তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
নাগা পিপলস ফ্রন্টের (এনপিএফ) বিধায়ক অবাংবাউ নিউমাইও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর কাংপোকপি জেলার পিপুরাম, চাম্রিউপিউ ও থেব্রাম এলাকায় সন্দেহভাজন কুকি সশস্ত্র ব্যক্তিরা সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালায়। এ সময় সরকারি স্কুল, চার্চ ও কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর তামেই সাব-ডিভিশনের লাসানে ওয়াকোটফাইয়ের বাসিন্দা পাওজাঙ্গাম চংলোই নিহত হন। একই সঙ্গে কামজংয়ের পিলংয়ে কুকি ন্যাশনাল আর্মি (বার্মা) বা কেএনএ (বি)-এর সন্দেহভাজন হামলায় চার সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে কাংপোকপি জেলার মাকুই চাম্রিউপিউ, মাকুই থানাম্বা ও মাকুই থেব্রাম গ্রামে ব্যাপক হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনটি গ্রামে প্রায় ৪০টি বাড়ি, একটি চার্চ এবং কয়েকটি সরকারি স্থাপনা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাকুই চাম্রিউপিউতে অন্তত ১৭টি, মাকুই থানাম্বায় ৮টি এবং মাকুই থেব্রামে ১৬টি বাড়ি পুড়ে গেছে। বুধবার দুপুর থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে তিনটি এলাকায় হামলা চলে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, হামলা ও অগ্নিসংযোগের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় অনেক গ্রামবাসী নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
ঘটনার পর বিভিন্ন পক্ষ থেকে সহিংসতা বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও এলাকায় সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।