মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলেছেন। টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির এক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ নিয়ে কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি জ্বালানি তেলের দাম, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়েও মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প এর আগেও হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করার কথা বলেছিলেন। এমনকি প্রণালিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করার দাবিও করেছিলেন তিনি। তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই জলপথের নাম একতরফাভাবে পরিবর্তন করার ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের নেই।
ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক তেলবাহী জাহাজ এই পথ ব্যবহার করছে। তিনি আরও বলেন, তাঁর নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম কমছে।
ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে তেলের দাম আরও কমতে পারে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তবে একই সময়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্টো বেড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন স্থাপনা ও জাহাজে হামলার খবরের প্রভাবে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
সম্মেলনে সংবাদমাধ্যম নিয়েও রসিকতা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিক বাথরুমে গেলে তাঁর খালি চেয়ার ক্যামেরায় দেখানো হতে পারে এবং তখন বলা হবে, সম্মেলনকক্ষ পূর্ণ করতে প্রেসিডেন্ট ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণেই রসিকতা করে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘কেউ বাথরুমে যাবেন না।’
এদিকে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়েও বক্তব্য দেন ট্রাম্প। তিনি জানান, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে অংশ নেবেন এবং বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ করবেন।
রিপাবলিকানরা নির্বাচনে পরাজিত হলে সীমান্ত নিরাপত্তা, করছাড় ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সম্মেলনে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ আরও কয়েকজন বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা এই আয়োজনকে সমালোচনা করে বলেছেন, এর মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।