যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ করার ইঙ্গিত দিয়ে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নিউ মেক্সিকোর একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে ‘মেক্সিকো’ শব্দটি লাল দাগ দিয়ে কেটে তার নিচে ‘আমেরিকা’ লেখা দেখা যায়।
তবে নিউ মেক্সিকোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ট্রাম্পের পোস্ট করা সেই মানচিত্র পরবর্তী সময়ে হোয়াইট হাউসের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও পুনরায় প্রকাশ করা হয়। পোস্টটির সঙ্গে অবশ্য কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
অঙ্গরাজ্যটির নাম পরিবর্তন নিয়ে কোনো সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বিভিন্ন গণমাধ্যম হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প ফেডারেল পর্যায়ে জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেম বা জিএনআইএসের আওতাভুক্ত বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে পারেন। নদী, হ্রদসহ জলাশয়ের নামও এর আওতায় পড়ে। তবে সংবিধান অনুযায়ী কোনো অঙ্গরাজ্যের নাম একতরফাভাবে পরিবর্তন করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
এর আগে লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। গত মাসের শেষ দিকে এ বিষয়ে তিনি একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন।
এরও আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নেন তিনি।
নিউ মেক্সিকোর নাম নিয়ে ট্রাম্পের সর্বশেষ পোস্টের সমালোচনা করেছেন অঙ্গরাজ্যটির ডেমোক্র্যাট গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে সরাতেই এমন বিষয় সামনে আনা হচ্ছে।
এক্সে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় গভর্নর বলেন, নিউ মেক্সিকোর নাম নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্কের প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, যখন দেশের মানুষ অর্থনৈতিক চাপ ও জ্বালানির বাড়তি দামের মতো সমস্যার মুখোমুখি, তখন মানচিত্রে নাম পরিবর্তনের মতো বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া অপ্রয়োজনীয়।
অঙ্গরাজ্যটির ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্টিন হেইনরিখও ট্রাম্পের পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মেক্সিকো উপসাগর, লেক অন্টারিও এবং নিউ মেক্সিকো—এই তিন নামই তিনি প্রচলিত নামেই ব্যবহার করবেন।
নিউ মেক্সিকোর নামের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অনেক আগেই, ষোড়শ শতাব্দী থেকে এই নামটির ব্যবহার হয়ে আসছে।
এর আগে বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছেন ট্রাম্প। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যিক উত্তেজনার মধ্যেই লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ, মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলের প্রচেষ্টা এবং আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের ইচ্ছা—সব মিলিয়ে তাঁর এমন পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।