ইরানের নেতৃত্বকে প্রচলিত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা বিবেচনা করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক সন্ত্রাসবিরোধী উপদেষ্টা জো কেন্ট।
সম্প্রতি পডকাস্টার টাকার কার্লসনের অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। তাঁর মতে, এমন সম্ভাবনাকে অসম্ভব মনে করা বাস্তব পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করার শামিল।
কেন্টের ভাষ্য, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন একাধিকবার নিজেদের লক্ষ্য পরিবর্তন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত কোনো লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
কেন্টের মতে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে সরিয়ে দিয়ে দেশটিকে পুরোপুরি আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চায়, তাহলে তাদের সামনে কঠিন দুটি বিকল্প থাকতে পারে—বড় ধরনের স্থল অভিযান অথবা আরও ভয়াবহ সামরিক ব্যবস্থা।
তবে ইরানের বিশাল ভূখণ্ড ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে দেশটিতে পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, প্রচলিত সামরিক উপায়ে কাঙ্ক্ষিত ফল না এলে গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় চলে আসতে পারে।
কেন্ট আরও বলেন, তাত্ত্বিকভাবে ইরানের পার্বত্য অঞ্চলে ভূগর্ভে থাকা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে সীমিত পারমাণবিক হামলার কথাও বিবেচনা করা হতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প ইরানকে বিভিন্নভাবে সতর্ক করে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন।
এদিকে ইরানের ওপর সামরিক চাপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার দিকেও জোর দিচ্ছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন, যার নাম দেন ‘ইকোনমিক ডি-ডে’।
এরপর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় চীনে থাকা বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক কমিয়ে দেশটিকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করাই এসব পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে গোলাবারুদের ঘাটতির খবর অস্বীকার করে আসছেন।