রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> হবিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

>> স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের স্ত্রী-সন্তানদের স্বজনের জিম্মায় দিল পুলিশ

>> বাংলামোটর থেকে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা, অংশ নিয়েছেন জামায়াত জোটের নেতারা

>> চেলসির নীল জার্সিতে এমি মার্তিনেজ, তিন বছরের চুক্তিতে যোগ দিলেন আর্জেন্টাইন গোলকিপার

>> অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দ্রুত দাহের অভিযোগ, সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ রিমান্ডে

>> ঢোল-কাঁসরের তালে কুষ্টিয়ার বহলবাড়িয়া বিলে জমজমাট নৌকাবাইচ

>> বগুড়ার সাতমাথায় ড্রেন খননের সময় ৩৩৪ গুলি উদ্ধার, উৎস নিয়ে রহস্য

>> চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে জালিয়াতির অভিযোগ, জি কে শামীমের বিচার শুরু

>> সংখ্যার হিসাবেই সমস্যা, অর্থকড়ি সামলান বাবা—ডিসক্যালকুলিয়ার কথা জানালেন তারা

>> এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদনের সময় বাড়ল, মিলবে তথ্য সংশোধনের সুযোগ

আপনি পড়ছেন : বিশ্ব

অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দ্রুত দাহের অভিযোগ, সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ রিমান্ডে


Rabeya ৩০ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৪:১১



অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দ্রুত দাহের অভিযোগ, সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ রিমান্ডে


কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মরদেহ দ্রুত দাহ করার অভিযোগে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তে অস্ত্র দেখিয়ে মরদেহ দ্রুত সৎকারের ব্যবস্থা করার অভিযোগ সামনে এসেছে। এ ঘটনায় পানিহাটির সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে আরও দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

শনিবার ব্যারাকপুর আদালতে মামলার শুনানি হয়। তদন্তের প্রয়োজনে নির্মল ঘোষকে আরও দুই দিন হেফাজতে রাখার আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে সোমবার আবার আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সরকারি কৌঁসুলি যদুনাথ ঘোষ আদালতে দাবি করেন, নিহত চিকিৎসকের বাবা গোপন জবানবন্দিতে মরদেহ সৎকারের সময় নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পানিহাটি শ্মশানে সেদিন আরও দুটি মরদেহ দাহের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু হুমকির কারণে সেগুলোর আগে ওই নারী চিকিৎসকের মরদেহ দাহ করা হয়।

পুলিশের অভিযোগ, নির্মল ঘোষসহ স্থানীয় তৃণমূলের আরও কয়েকজন নেতা নিহত চিকিৎসকের বাবা-মাকে শেষবার মেয়ের মরদেহ দেখার সুযোগ দেননি। ধর্মীয় রীতিনীতি যথাযথভাবে পালন না করেই তড়িঘড়ি করে মরদেহ দাহ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তকারীদের দাবি, মরদেহটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে দ্রুত পানিহাটি শ্মশানে নেওয়া হয়েছিল। সৎকারের পুরো প্রক্রিয়া নিয়েই পরিবারের পক্ষ থেকে নানা অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।

মরদেহ দাহের ঘটনায় নির্মল ঘোষসহ তিন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে নিহত চিকিৎসকের বাবা মামলা করেন। পরে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করে। এরপর ওডিশায় আত্মগোপনে থাকা নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে পানিহাটির একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রীও মরদেহ দ্রুত সৎকারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কেন পরিবারের অনুরোধের পরও দ্রুত মরদেহ দাহ করা হয়েছিল এবং ধর্মীয় আচার যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, মরদেহ দাহের সময় পানিহাটি পৌরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধেও দ্রুত সৎকারের ব্যবস্থা করার অভিযোগ রয়েছে।

নির্মল ঘোষ পানিহাটির সাবেক তৃণমূল বিধায়ক। তাঁকে ওডিশা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ১৩ জুলাই তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকেও একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষ এবং লটারি টিকিট সংক্রান্ত প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি আসনে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন তীর্থঙ্কর ঘোষ। ওই আসনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন নিহত নারী চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ।

২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাতে কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় ওই নারী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন। ঘটনাটি ঘিরে ভারতজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন ও প্রতিবাদ হয়। এবার তাঁর মরদেহ সৎকারের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও নতুন করে তদন্তের আওতায় এসেছে।