রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা কয়েকটি ভিডিওতে ওকাসিও-কর্টেজকে ডিম্বাণু সংরক্ষণের চিকিৎসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইনজেকশন নিতে দেখা যায়। ভিডিওগুলোতে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি এই চিকিৎসার খরচ, পদ্ধতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
পরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন তিনি।
ওকাসিও-কর্টেজের ভাষ্য, ডিম্বাণু সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সমাজে আরও স্বাভাবিকভাবে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
ডেমোক্র্যাট এই আইনপ্রণেতার অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নারীরা প্রজননস্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের বাধার মুখোমুখি হচ্ছেন। গর্ভপাতের অধিকার থেকে শুরু করে নিরাপদভাবে গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদানের সুযোগ—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ওকাসিও-কর্টেজ জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে। তারপরও নিজের অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন তিনি।
এদিকে ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরেও নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ওকাসিও-কর্টেজ। সাম্প্রতিক একটি জনমত জরিপে সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের তালিকায় তার নাম উঠে এসেছে।
এবিসি নিউজের সাক্ষাৎকারে তাকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা তিনি ভাবছেন কি না।
জবাবে সরাসরি প্রার্থিতা ঘোষণা না করে ওকাসিও-কর্টেজ জানান, তিনি বর্তমানে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং কংগ্রেসে নিজের আসন ধরে রাখার বিষয়েই মনোযোগ দিচ্ছেন।
তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার সম্ভাবনা তিনি পুরোপুরি বাতিল করেননি। বরং সম্ভাবনাটি নাকচ করেননি বলে স্পষ্ট করেন এই কংগ্রেস সদস্য। একই সঙ্গে বিভিন্ন মহল থেকে পাওয়া সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, এই মুহূর্তে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চেয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ওপর মনোযোগ রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সাক্ষাৎকারে ওকাসিও-কর্টেজকে সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নির্বাচনে লড়ার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।
এ বিষয়ে তিনি সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিয়ে সংক্ষেপে জানান, রাজনীতিতে সবকিছুই সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতি দুই বছর পরপর এর আয়োজন করা হয়।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেই ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ১০০ সদস্যের মার্কিন সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ফলে আগামী নির্বাচনের আগে ওকাসিও-কর্টেজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা আরও জোরালো হচ্ছে।