নিজস্ব প্রতিবেদক:
ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকানা জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের নামে হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) এক শ্রেণির কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার না পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন সবুজ। তাঁর অভিযোগ, বৈধ মালিকানা থাকা সত্ত্বেও জাল স্বাক্ষর ও অনিয়মের মাধ্যমে তাঁর গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের বহলডাঙ্গা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন সবুজ পূবালী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে একটি প্রাইভেটকার কেনেন। ঢাকা মেট্রো-গ ৩২-২৫৬৫ নম্বরের গাড়িটি দিয়ে তিনি ঢাকায় ছোটখাটো ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, তাঁর অনুপস্থিতিতে এবং তাঁর স্বাক্ষর ছাড়াই বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জালিয়াতির মাধ্যমে গাড়িটির মালিকানা অন্য ব্যক্তির নামে হস্তান্তর করেন। গাড়ির কাগজপত্র নবায়ন করতে গিয়ে বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। পরে বিআরটিএ কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে প্রথমে কম্পিউটারের ভুলের কথা জানিয়ে তা সংশোধনের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আনোয়ার হোসেন সবুজ জানান, এ ঘটনায় তিনি ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর বিআরটিএ চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। এরপরও কোনো কার্যকর প্রতিকার না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন।
পরবর্তী সময়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ নয়, বরং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো উত্তর ইউনিট বিষয়টি তদন্ত করে। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদনে গাড়িটির প্রকৃত মালিক হিসেবে তাঁর দাবির পক্ষে তথ্য উঠে এসেছে। একই সঙ্গে মালিকানা পরিবর্তনের ঘটনায় বিআরটিএর কর্মকর্তাদের যোগসাজশের বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে তদন্ত প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২০২২ সালের ২১ মার্চ মিরপুর-১৩ নম্বর বিআরটিএ কার্যালয়ে তাঁর গাড়ির মালিকানা-সংক্রান্ত বৈধ সাসপেনশন কপি জমা ছিল। তা সত্ত্বেও অর্থের বিনিময়ে উইথড্র টোকেন ছাড়াই জাল স্বাক্ষর তৈরি করে গাড়িটির মালিকানা অন্যের নামে হস্তান্তর করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
আনোয়ার হোসেন সবুজের ভাষ্য, সমস্যার সমাধান চেয়ে তিনি এ পর্যন্ত বিআরটিএ অধিদপ্তরে ৫৩টি আবেদন করেছেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাননি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে দুদকে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, “২০২২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত আমি ন্যায়বিচারের জন্য ঘুরছি। বিআরটিএর কর্মকর্তারা সমস্যার সমাধান না করে বরং জড়িতদের বিভিন্ন জায়গায় বদলি করে দিয়ে তাঁদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।”
তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও গাড়ির মালিকানা ফিরে পাওয়া কিংবা অভিযোগের কার্যকর নিষ্পত্তির বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা, মালিকানা হস্তান্তরের নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন সবুজের প্রত্যাশা, দুদক তাঁর অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং তিনি তাঁর গাড়ির বৈধ মালিকানা ফিরে পাবেন।
সম্পাদনা নোট: প্রকাশের আগে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন, বিআরটিএর মালিকানা হস্তান্তরের নথি এবং দুদকে অভিযোগ জমা দেওয়ার প্রমাণ যাচাই করা উচিত। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।