শনিবার দুপুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের প্রবেশপথের কাছে এ ঘটনা ঘটে। তবে মারধরের শিকার ব্যক্তিদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল থেকেই ৩২ নম্বর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল। একপর্যায়ে একজন রিকশাচালক মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। তাকে সন্দেহ করে কয়েকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটির পর মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ওই রিকশাচালককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এর আগে সকালে ফুল দিতে আসা অর্ণব দাস নামের আরেক ব্যক্তিকেও পুলিশ আটক করে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে রিকশাচালককে মারধরের সময় সেখানে থাকা আরেক ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে তাঁকেও মারধর করা হয়। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
দুপুরের দিকে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সিঙারা বিতরণ করা হচ্ছে—এমন অভিযোগে আরও একজনকে আটকানোর চেষ্টা করা হয়। ওই ব্যক্তির হাতে থাকা ব্যাগে সিঙারা পাওয়া যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। একপর্যায়ে তিনিও সেখান থেকে চলে যান।
ঘটনাস্থলে থাকা আ ন ম আয়াস দাবি করেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কেউ যাতে কোনো ধরনের কর্মসূচি বা অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে জন্য তাঁরা সেখানে অবস্থান করছেন। কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে কাউকে মারধর বা মব তৈরি করা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আয়াস বলেন, তাঁদের উদ্দেশ্য কাউকে আইন নিজের হাতে শাস্তি দেওয়া নয়; বরং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা।
এদিকে ডিএমপির ধানমন্ডি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার সাদ্দাম হোসেন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
শনিবার ভোর থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের আশপাশে ব্যারিকেড বসানো হয়। বাড়িটির সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলেও বিধিনিষেধ ছিল। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও উৎসুক মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের সাঁজোয়া যানও প্রস্তুত রাখা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।