রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
৩ কার্তিক ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> জাজিরায় জেলেদের সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, ওজনে কম দেওয়ার দাবি

>> বান্দরবান বিআরটিএর অফিস সহকারী জামালের বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি ও অনিয়মের অভিযোগ

>> ‘দুপুরে ফেল, সন্ধ্যায় পাস!’ ইকুরিয়া বিআরটিএতে লাইসেন্স বাণিজ্যের অভিযোগ পরিদর্শক মনিষ কুমারের বিরুদ্ধে

>> রৌমারীতে অটোরিকশার ওপর ট্রাক উঠে নিহত ৫

>> কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে ৬ পর্যটকের মৃত্যু, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত

>> পটিয়া ভূমি অফিসে নথি বাণিজ্য ও ঘুষের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত দাবি

>> বান্দরবান-চট্টগ্রামে কাঠ পাচারের অভিযোগ, বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা ঘুষের দাবি

>> রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় আটক ৪৮১, ৪০ মামলা

>> মুক্তি পেলেন নেহা, অভিজিৎ দীপকের অবস্থান জানতে চায় সিজেপি

>> সিলেটের বিতর্কিত মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার এখন কুমিল্লায়, দালালচক্রের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ

আপনি পড়ছেন : এক্সক্লুসিভ

জাজিরায় জেলেদের সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, ওজনে কম দেওয়ার দাবি


Sheikh Mojahidur Rahman ১৮ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:৩০
জাজিরায় জেলেদের সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, ওজনে কম দেওয়ার দাবি

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়ন পরিষদে জেলেদের জন্য বরাদ্দ সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতি ২৫ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও ২৩ থেকে ২৪ কেজি করে দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন জেলেরা। এ ছাড়া বিতরণ করা চালে পোকা ও আবর্জনা থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেক জেলে চাল নিতে অস্বীকৃতি জানান। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে সরেজমিনে এসব চিত্র দেখা যায়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিকেনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসকান্দার আলী ভূঁইয়া প্রথমে অনিয়মের কথা অস্বীকার করেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাঁকে উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা বহুত বাইড়া গেছো। একটু কমাইয়া বাইড়ো।’

বিকেনগর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, কার্ডধারী জেলেদের মধ্যে সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণ করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক জেলের ২৫ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের ১ থেকে ২ কেজি কম দেওয়া হচ্ছিল। পাশাপাশি চালের মধ্যে পোকা ও আবর্জনা দেখতে পেয়ে উপস্থিত জেলেদের অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ চাল নিতে অস্বীকৃতি জানান।

ওই দিন ইউনিয়নের ৮০ জন জেলের মধ্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে। তবে বিতরণকাজ কখন শুরু হয়, কতজন চাল গ্রহণ করেছেন এবং কতজন চাল না নিয়ে ফিরে গেছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিতরণকাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশেই ওজনে কম চাল দেওয়া হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী জেলেদের অভিযোগ, সরকার তাঁদের জন্য ২৫ কেজি করে ভালো মানের চাল বরাদ্দ দিলেও বিতরণকেন্দ্রে এসে তাঁরা পোকাযুক্ত ও পরিমাণে কম চাল পাচ্ছেন। তাঁদের ভাষ্য, অভাব-অনটনের সময় সরকারি সহায়তা নিতে এসেও প্রত্যাশিত পরিমাণ ও মানের চাল না পাওয়ায় তাঁরা হতাশ। নিরাপত্তা ও পরিচয় প্রকাশ না করার বিষয় বিবেচনায় তাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান এসকান্দার আলী ভূঁইয়া প্রথমে দাবি করেন, সেখানে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না এবং নিয়ম মেনেই চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

তবে ওজনে কম দেওয়া এবং চালের মান নিয়ে আরও প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা বহুত বাইড়া গেছো। একটু কমাইয়া বাইড়ো।’

তবে চালের ওজন কম হওয়া ও পোকাযুক্ত চাল বিতরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সরকারি চাল বিতরণ তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম বিতরণকাজ চলাকালে ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত ছিলেন না।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি যতক্ষণ ছিলাম, কোনো চাল কম দেওয়া হয়নি। কৃষি অফিসে মিটিং থাকায় আমি আগেই চলে এসেছি। পরে কম দিয়ে থাকতে পারে, সেটা আমার জানা নেই।’

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি উপস্থিত থাকা অবস্থায় চাল কম দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তবে তাঁর চলে যাওয়ার পর বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।


অভিযোগের বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি তাঁদের জানা নেই। তবে সরকারি চাল বিতরণে অনিয়ম কিংবা নিম্নমানের চাল দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি জানান, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তদন্ত কমিটি গঠন, তদন্তের সময়সীমা কিংবা অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।


প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন বিকেনগর ইউনিয়নের ৮০ জন জেলের মধ্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছিল এবং প্রত্যেকের প্রাপ্য ছিল ২৫ কেজি। অভিযোগ অনুযায়ী, জনপ্রতি ১ থেকে ২ কেজি কম দেওয়া হয়ে থাকলে ৮০ জনের ক্ষেত্রে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৮০ থেকে ১৬০ কেজি।