স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির বিধি উপেক্ষা করে আউটসোর্সিং ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, জনবল নিয়োগে অনিয়ম, পদোন্নতি ও পদায়নে অর্থ লেনদেনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।
এলজিইডির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মো. বেলাল হোসেনকে প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) পদে পদোন্নতি দেওয়ার প্রজ্ঞাপন ১৯ জুলাই ২০২৬ প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ‘এলকেএসএস হিউম্যান রিসোর্স সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পে আউটসোর্সিং জনবল সরবরাহ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও মালিকানা নিয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। ২৩ জুন ২০২৬ তারিখের একটি চিঠিতে সরকারি কর্মচারী হিসেবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে কি না এবং প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা পরিবর্তনের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে প্রায় কয়েক হাজার জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির যোগ্যতা, লাইসেন্স, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং অর্থ লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া আউটসোর্সিং কর্মীদের বেতন থেকে কর্তন করা অর্থ নির্ধারিত নিয়মে সরকারি হিসাব বা সংশ্লিষ্ট যৌথ ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে কি না, তা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের আর্থিক পরিমাণ এবং প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও হিসাব নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতিরিক্ত দায়িত্ব ও চলতি দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন হয়েছে। সম্প্রতি সার্ভেয়ার ও কার্যসহকারীদের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির জন্য অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পরীক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
তাদের অভিযোগ, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পদোন্নতির ক্ষেত্রে নিয়ম ও মেধাক্রম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে স্বচ্ছতা প্রয়োজন।
এর আগে মো. বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত শুরুর খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।
তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা তদন্ত শুরু হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।
প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা আউটসোর্সিং ব্যবসা ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি ফোনে সাড়া দেননি এবং খুদে বার্তারও জবাব দেননি।