কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত বদলে দিচ্ছে মানুষের শেখা, কাজ করা ও চিন্তার ধরন। এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু তথ্য জানা নয়, সঠিক প্রশ্ন করতে পারা এবং কোনো সমস্যাকে গভীরভাবে বোঝার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজিতে (আইআইটি) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেছেন।
‘টেনএক্স মাইন্ডস ইন দ্য এজ অব এআই: আর ইউ রেডি?’ শীর্ষক সেমিনারটি গত সোমবার অনুষ্ঠিত হয়। এর আয়োজন করে মিলিয়নএক্স বাংলাদেশ এবং আইআইটি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার্স কমিউনিটি (আইআইটিএসইসি)।
সেমিনারে এআই কীভাবে শিক্ষাব্যবস্থা, কর্মক্ষেত্র ও মানুষের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনছে, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্ম এবং দেশের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নব্যবস্থা এই পরিবর্তনের জন্য কতটা প্রস্তুত, সে বিষয়েও মতামত তুলে ধরা হয়।
মিলিয়নএক্স বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ডেটাসফট লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট এম মঞ্জুর মাহমুদ কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। এআইয়ের কারণে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রের ধরন কীভাবে বদলাতে পারে এবং কোন ধরনের দক্ষতার গুরুত্ব বাড়বে, সেসব বিষয়ও তিনি তুলে ধরেন।
মিলিয়নএক্স বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ইভিআরকুলের প্রতিষ্ঠাতা আনিস রহমান বলেন, এআইয়ের যুগে প্রচলিত চিন্তার বাইরে গিয়ে সমস্যা শনাক্ত করা, সৃজনশীলভাবে চিন্তা করা এবং সমাধানের জন্য সঠিক প্রশ্ন করতে পারা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। মানবসম্পদ উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, এআই অনেক প্রশ্নের উত্তর সহজেই খুঁজে দিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে শুধু তথ্য জানা নয়, বরং সঠিক প্রশ্ন করতে পারার দক্ষতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তথ্য বিশ্লেষণ করে নতুন ধারণা তৈরি এবং জটিল সমস্যার কার্যকর সমাধান করার সক্ষমতাই ভবিষ্যতে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
সেমিনারে এআইয়ের পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় তরুণদের নতুন দক্ষতা অর্জন এবং সৃজনশীল চিন্তার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।