মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ ও ড্রেনের কাজের জন্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়কের বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে বড় নালা তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি খনন করা মাটি সড়কের ওপর স্তূপ করে রাখায় স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগও নেই।
পশ্চিম দেওভোগ বিলেরকানি থেকে শাহ আলম শেখের বাড়ি হয়ে খালপাড় পর্যন্ত সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ধীরগতিতে কাজ চলার পাশাপাশি মানুষের চলাচলের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সড়কটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। দীর্ঘদিন এভাবে বন্ধ থাকলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এক পাশ দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা রেখে অন্য পাশে কাজ চালানো এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বৈখর অনির্বাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শাহ আলম শেখের বিলেরকানি বাড়ি পর্যন্ত এলাকায় দুটি প্রকল্পের আওতায় রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৯০ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৩ হাজার টাকা। এছাড়া ৪৭৬ মিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও এজেন্সি ফ্রান্স ডেভেলপমেন্টের (এএফডি) অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শরীফ এন্টারপ্রাইজ। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর কাজ শুরু হয়েছে এবং ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি কাজ শেষ হওয়ার কথা।
সম্প্রতি বৈখর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজের কারণে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত ও নালা তৈরি হয়েছে। কোথাও আবার খনন করা মাটির বড় স্তূপ পড়ে আছে। সড়কের পাশেই অনির্বাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবক বিউটি আক্তার দুই শিশুকে নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় জানান, সড়কটি উঁচু-নিচু হয়ে যাওয়ায় শিশুদের নিয়ে চলাচল করা কঠিন। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তখন বিদ্যালয়ে যেতে প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যেতে হয়। সামনে শিশুদের পরীক্ষা থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে প্রায় তিন মাস আগে। আর ড্রেনের কাজ শুরু হয়েছে প্রায় ১০ দিন আগে। তাঁদের অভিযোগ, দুই দিন কাজ করার পর কয়েক দিন কাজ বন্ধ থাকছে। ফলে নির্মাণকাজের তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। খনন করা অংশে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় পথচারীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলাকাবাসী বলছেন, উন্নয়নকাজের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। বরং রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ হওয়ায় তাঁরা উপকৃত হবেন। তবে কাজের সময় সড়ক পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ায় এবং বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি অন্তত একটি অংশ দিয়ে পথচারীদের চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি তাঁদের।
স্থানীয় বাসিন্দা রতন মৃধা বলেন, নির্মাণকাজের জন্য সাময়িক দুর্ভোগ মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু সড়ক পুরোপুরি বন্ধ রেখে দীর্ঘদিন কাজ ধীরগতিতে চললে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। বিশেষ করে যাঁদের নিয়মিত শহরমুখী যাতায়াত করতে হয়, তাঁদের বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শরীফ এন্টারপ্রাইজের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সাইদ টিটু বলেন, সড়কটি সরু হওয়ায় ড্রেন খননের পর মাটি রাখার জন্য আলাদা জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে সড়কের ওপরই মাটি রাখতে হচ্ছে।
তবে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, উন্নয়নকাজের কারণে মানুষের চলাচল বন্ধ করে রাখা যাবে না। তিনি বলেন, ঠিকাদারকে মানুষের যাতায়াতের ব্যবস্থা রেখেই কাজ চালাতে হবে। নিয়ম মেনে কাজ না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।