কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিদ্যালয়ের সামনে থেকে এক শিশুশিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। পরে শিশুটিকে নিয়ে ওই নারীকে বিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে একটি অটোরিকশায় পাওয়া যায়। এ সময় ‘মেয়েধরা’ সন্দেহে স্থানীয় লোকজন ওই নারীকে মারধর করেন।
বুধবার দুপুরের দিকে কটিয়াদী পৌর এলাকার বেথৈর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল ১১টার দিকে বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল। এ সময় কালো বোরকা পরা এক নারী কয়েকজন শিক্ষার্থীর নাম ধরে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইলমাকে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি কয়েকজন শিক্ষার্থীর নজরে পড়লে তারা ওই নারীর পিছু নেয়। পরে ইলমাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যেতে দেখে তারা বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের জানায়। খবর পেয়ে শিশুটির পরিবারের সদস্যরাও তাকে খুঁজতে বের হন।
একপর্যায়ে ইলমার বাবা বিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে পিপুলিয়া এলাকায় অটোরিকশাটির সন্ধান পান। সেখানে স্থানীয় লোকজন ওই নারীকে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তাঁর কথাবার্তায় অসংলগ্নতা রয়েছে বলে উপস্থিত ব্যক্তিরা দাবি করেন।
পরে উত্তেজিত জনতা ওই নারীকে মারধর করে শিশুটিসহ বিদ্যালয়ে নিয়ে আসে এবং সেখানে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নারীকে উদ্ধার করে প্রথমে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে এবং পরে থানায় নিয়ে যায়।
শিশু ইলমার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী তাকে তার বাবা দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া তিনি ইলমাকে কানের দুল খুলে দিতে বলেছিলেন।
বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কিশো আর সুলতানা জানান, বিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা এবং শিক্ষা বিভাগের একজন কর্মকর্তার আগমনকে কেন্দ্র করে শিক্ষকরা ব্যস্ত ছিলেন। এর মধ্যেই শিশুটিকে কেউ বিদ্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়ার খবর পান তারা। পরে শিক্ষক ও কর্মচারীরা শিশুটির সন্ধানে বের হন।
কটিয়াদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ বলেন, স্থানীয় লোকজনের মারধরে ওই নারী আহত হন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। পরে থানায় নেওয়ার সময়ও কিছু লোক তাকে মারধরের চেষ্টা করেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, নারীকে থানায় নেওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পুলিশের গাড়ির একটি কাচ ভেঙে যায়।
উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম ইলমা, বয়স সাত বছর। সে বেথৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারী নিজের নাম প্রিয়া, বয়স ২৫ বছর এবং বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকায় বলে জানিয়েছেন। তাঁর পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করা হচ্ছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং শিশুটিকে কেন বিদ্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা তদন্তের পর পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।