বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> রাশিয়ার তেল কিনলে ভারতেও ১০০% পর্যন্ত শুল্কের ক্ষমতা, ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় বিল

>> ডাকসুর শিক্ষক মূল্যায়ন উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের দাবি

>> ময়মনসিংহ মেডিকেলে ১ হাজার শয্যায় রোগী প্রায় ৪ হাজার, বারান্দা-মেঝেতেও চিকিৎসা

>> ট্রাম্পের সঙ্গে উপসাগরীয় নেতাদের বৈঠক, হুতিদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের গোপন আলোচনা

>> সার বিক্রয়কেন্দ্রের তালা ভাঙার চেষ্টা, বিএনপি নেতাকে শোকজ

>> বেশি সার সরবরাহের দাবি, তবু বিভিন্ন এলাকায় সংকটের অভিযোগ

>> বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত, তিন কিশোর আটক

>> সাদা চুল কালো করে ট্রেনে পালানোর চেষ্টা, আখাউড়ায় ধরা পড়লেন আসামি

>> বেশির ভাগ অপরাধের পেছনে মাদক-জুয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

>> বিএনপি নেতার গোয়াল থেকে চুরি হওয়া গরু উদ্ধার, শোকজ

আপনি পড়ছেন : শিক্ষা

ডাকসুর শিক্ষক মূল্যায়ন উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের দাবি


Rabeya ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:১২



ডাকসুর শিক্ষক মূল্যায়ন উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের দাবি


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক দিন আগে শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ‘ডিইউ টিচার্স ইভাল্যুশন’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করে। সেখানে শিক্ষার্থীরা তাঁদের বিভাগের শিক্ষকদের পাঠদান ও বিভিন্ন বিষয়ে মূল্যায়ন করেন। পরে মূল্যায়নের ফল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়।

লেখাটির সময় পর্যন্ত ওয়েবসাইটে ৭ হাজার ৫০ জন শিক্ষার্থী সাইনআপ করেছেন এবং ২ হাজার ৪৫ জন শিক্ষকের বিষয়ে ১১ হাজার ৩৪৭টি রিভিউ জমা পড়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিভিউয়ের ফল প্রকাশ বন্ধ রাখা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে শিক্ষক মূল্যায়নের ধারণাটি স্বাভাবিক হলেও এর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের বার্ড কলেজের শিক্ষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ফাহমিদুল হক। তাঁর মতে, সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অধীনেই এ ধরনের মূল্যায়ন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। একাডেমিক কাউন্সিল এর কাঠামো নির্ধারণ করতে পারে এবং বিভাগ বা অনুষদ তা বাস্তবায়ন করতে পারে।

শিক্ষক মূল্যায়নের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত পাঠদানের মান উন্নয়ন। মূল্যায়নের মাধ্যমে একজন শিক্ষক জানতে পারেন, শিক্ষার্থীরা তাঁর পাঠদানের পদ্ধতিকে কীভাবে দেখছেন। ফলাফল পর্যালোচনার পর প্রয়োজন অনুযায়ী বিভাগীয় চেয়ারম্যান বা ডিন শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করে উন্নতির সুযোগগুলো চিহ্নিত করতে পারেন।

ফাহমিদুল হকের মতে, এ দৃষ্টিকোণ থেকে ডাকসুর সরাসরি শিক্ষক মূল্যায়নের উদ্যোগ তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ডাকসুর মূল কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের অধিকার, সুযোগ-সুবিধা, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ এবং নেতৃত্ব তৈরিকে কেন্দ্র করে। শিক্ষক ব্যবস্থাপনা বা মূল্যায়ন সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাঠামোর বিষয়।

তবে তাঁর মতে, বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের পাঠদান মূল্যায়নের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা না থাকায় ডাকসুর উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা এবং এর সঠিক পদ্ধতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

লেখক নিজের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সময় তিনি শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের মুখোমুখি হননি। তবে ঢাকার কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের অভিজ্ঞতা তাঁর হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষকতা করার সময় তিনি আরও কাঠামোবদ্ধ মূল্যায়ন ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হন। সেখানে শিক্ষকের প্রস্তুতি, বিষয়বস্তু বোঝানোর সক্ষমতা, অ্যাসাইনমেন্টে প্রতিক্রিয়া দেওয়া, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের সময় শিক্ষককে পাওয়া এবং ক্লাস শিক্ষার্থীদের নতুনভাবে চিন্তা করতে উৎসাহিত করছে কি না—এ ধরনের বিভিন্ন বিষয় মূল্যায়নে অন্তর্ভুক্ত থাকে।

নিজের একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরে লেখক জানান, একটি সেমিস্টারে তাঁর মূল্যায়নের ফল প্রত্যাশিত হয়নি। পরে তাঁর সুপারভাইজার মূল্যায়নের বিস্তারিত ফল নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেন। ক্লাসের উপস্থাপনা, গ্রুপ ডিসকাশনের প্রশ্ন এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। পরবর্তী সেমিস্টারে এসব পরিবর্তনের পর তাঁর মূল্যায়নেও উন্নতি দেখা যায়।

লেখকের মতে, শিক্ষক মূল্যায়নের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত কাউকে অপমান বা হেয় করা নয়; বরং পাঠদানের মান উন্নত করা। শুধু সামগ্রিক রেটিং প্রকাশের পরিবর্তে কোন কোন মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টিও লেখায় তুলে ধরা হয়েছে। লেখকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনেক শিক্ষক বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সময় এ ধরনের মূল্যায়ন ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তা নিয়মিতভাবে চালু হয়নি।

লেখায় আরও বলা হয়েছে, পাঠদানের মান, পরীক্ষার ফল প্রকাশে বিলম্ব, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণ এবং একাডেমিক দায়িত্ব পালনের মতো বিষয়গুলো মূল্যায়নের আওতায় এলে শিক্ষকরা নিজেদের কার্যক্রম পর্যালোচনার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এ ধরনের মূল্যায়ন কীভাবে পরিচালিত হবে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যেই নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মত দেওয়া হয়েছে।

ডাকসুর উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘রেট মাই প্রফেসর’ নামের একটি স্বাধীন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গেও তুলনা করেছেন লেখক। সেখানে শিক্ষার্থীরা তাঁদের অধ্যাপকদের মূল্যায়ন ও মন্তব্য করতে পারেন। তবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকায় ওই প্ল্যাটফর্মের রিভিউ সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের বিকল্প হিসেবে কাজ করে না।

লেখকের মতে, বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা না থাকায় ডাকসুর উদ্যোগটি তুলনামূলকভাবে বেশি আলোচনায় এসেছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচিত নিজেদের একাডেমিক কাঠামোর মধ্যে দ্রুত ও স্বচ্ছ শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা।

● ফাহমিদুল হক, যুক্তরাষ্ট্রের বার্ড কলেজের শিক্ষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক

মতামত লেখকের নিজস্ব।