গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিটি গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে পৌঁছালে সেখানে পথসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
পথসভায় শফিকুর রহমান দাবি করেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সরকার সেই রায় উপেক্ষা করে জনগণকে অপমান করেছে। এ কারণে তাঁদের এই কর্মসূচি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের এই অংশ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা কোনো দলীয় স্বার্থে নয়, সাধারণ মানুষের দাবিকে সামনে রেখে রাজপথে নেমেছেন। তিনি জানান, আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় রূপ নিতে পারে।
লংমার্চের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠন, জুলাই গণহত্যার বিচার, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সংকট সমাধান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। এর পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও রয়েছে।
গাজীপুরের পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের দাবিতেও তাঁদের এই কর্মসূচি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এর আগে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উদ্বোধনী সমাবেশে শফিকুর রহমান সরকারকে জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আট দফা দাবি এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। তাই সেই পরিস্থিতির আগে সরকারকে সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে দাবিগুলো বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা-রংপুর লংমার্চে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জোটের অন্যান্য নেতারা রয়েছেন।
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া ও সিলেটেও লংমার্চ এবং ঢাকায় মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।