চীন থেকে দুই জায়ান্ট পান্ডা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। রোববার ভোরে একটি বিশেষ ভাড়ায় নেওয়া উড়োজাহাজে চেংডু শুয়াংলিউ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পান্ডা দুটি যুক্তরাষ্ট্রের পথে রওনা হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পান্ডা দুটির নাম পিং পিং ও ফু শুয়াং। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার একটি চিড়িয়াখানায় আগামী ১০ বছর তাদের রাখা হবে।
পান্ডা দুটি চীনের ‘পান্ডা কূটনীতি’ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে চীন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পান্ডা পাঠিয়ে থাকে।
সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পান্ডা দুটিকে বহনকারী উড়োজাহাজ স্থানীয় সময় রাতের দিকে চেংডু থেকে যাত্রা করে। প্রায় ১৫ ঘণ্টার দীর্ঘ এই যাত্রায় তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভাপে তৈরি ভুট্টার বান, বাঁশের কঞ্চি ও গাজর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ প্রাণী পরিচর্যাকারীরাও পান্ডা দুটির সঙ্গে রয়েছেন।
পান্ডা দুটির আগমন উপলক্ষে জু আটলান্টা তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করেছে। আবাসস্থল সংস্কারের পাশাপাশি প্রাণীগুলোর পরিচর্যার জন্য আলাদা দল গঠন করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাঁশের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও করেছে কর্তৃপক্ষ।
পিং পিং ও ফু শুয়াং—দুটিরই জন্ম ২০২০ সালে। পুরুষ পান্ডা পিং পিংয়ের বয়স এখন ছয় বছর। আর ফু শুয়াং আগামী মাসে ছয় বছরে পা দেবে। বন্দী অবস্থায় জায়ান্ট পান্ডা সাধারণত প্রায় ৩০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।
জু আটলান্টায় এর আগেও দীর্ঘ সময় চীনের পান্ডা ছিল। ১৯৯৯ সাল থেকে প্রায় ২৫ বছর সেখানে চীনের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া পান্ডা রাখা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের পর চিড়িয়াখানাটিতে আর কোনো পান্ডা ছিল না।
চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পান্ডা বিনিময়ের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৭২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ঐতিহাসিক চীন সফরের পর বেইজিং ওয়াশিংটনকে এক জোড়া জায়ান্ট পান্ডা উপহার দিয়েছিল।
এরপর কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন দেশে পান্ডা পাঠানো চীনের কূটনৈতিক যোগাযোগের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। এবার নতুন করে দুই পান্ডার যুক্তরাষ্ট্রযাত্রাও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে।