সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বাস্তবতা

>> অপ্রতিম হত্যার পর আতঙ্কিত অভিভাবকেরা, শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

>> দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এমপি গাজী নজরুলের শাস্তির দাবিতে শ্যামনগরে বিক্ষোভ

>> নারায়ণগঞ্জে লোকালয়ে কুমির, কীভাবে এল জানেন না কেউ

>> ‘বন্ধুর লাশ নিয়ে হাসপাতালে আছি, সে আর ফোন ধরবে না’

>> গরমে শ্রমিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ, চার বছরেই উঠে আসতে পারে খরচ

>> জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

>> লিটারে ২০ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পাম্পে ভিড়, ক্ষোভ গ্রাহকদের

>> ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করতে চায় সংবিধান সংশোধন কমিটি: সালাহউদ্দিন আহমদ

>> কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারাল বাংলাদেশ

আপনি পড়ছেন : বিশ্ব

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বাস্তবতা


Rabeya ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:২২



অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বাস্তবতা


অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসননীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটিতে বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি অভিবাসনের চাপ নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী অভিবাসীদের জন্য বেশ কিছু নিয়ম কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েট ভিসাধারীদের পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার সুযোগ সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে পিএইচডি পর্যায়ের গবেষকদের ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে পরিবার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকারীদের ক্ষেত্রে আলাদা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

পড়াশোনার মাধ্যমে ভিসার মেয়াদ ধরে রাখার জন্য এক কোর্স থেকে আরেকটি তুলনামূলক নিম্নস্তরের কোর্সে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিকভাবে উচ্চতর যোগ্যতার দিকে এগোনোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া ভিজিটর ভিসা ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের পর দেশটির ভেতর থেকেই শিক্ষার্থী বা অন্য ধরনের ভিসায় পরিবর্তনের সুযোগও সীমিত করা হচ্ছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দক্ষ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। নির্মাণ খাতের কারিগরি দক্ষতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষকতা ও কৃষির মতো শ্রমঘাটতি থাকা খাতকে গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও দক্ষ অভিবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে সরকারকে একদিকে অর্থনীতির প্রয়োজন মেটাতে দক্ষ জনশক্তি ধরে রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে অভিবাসন ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চাপও সামলাতে হচ্ছে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সতর্কভাবে পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সুযোগ পাওয়াকে লক্ষ্য না করে পড়াশোনার বিষয়, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান, আর্থিক সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট ভিসার বর্তমান শর্ত বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে কোনো এজেন্টের কথায় নির্ভর করে ভিজিটর ভিসায় গিয়ে পরে শিক্ষার্থী ভিসায় পরিবর্তন কিংবা একের পর এক নিম্নস্তরের কোর্সে ভর্তি হয়ে থাকার পরিকল্পনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার সরকারি নিয়ম ও ভিসার শর্ত যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

যাঁরা অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোর্স বেছে নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে যে পেশাগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজারে চাহিদা রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে আগেই তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন।

ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও বৈধ ভিসার শর্ত মেনে চলা এবং পড়াশোনা ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষে, অস্ট্রেলিয়া অভিবাসন পুরোপুরি বন্ধ করছে—এমনটি বলা যায় না। বরং দেশটি অভিবাসনের ধরন, ভিসা ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতার অগ্রাধিকারে পরিবর্তন আনছে। তাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বর্তমান সরকারি নিয়ম যাচাই করে বৈধ ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়ে এগোনো।