বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
৬ কার্তিক ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙলে ছাড় নয়, সতর্ক বিএনপির নেতাকর্মীরা

>> নামজারিতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষের অভিযোগ, অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তার অস্বীকার

>> প্রাবোও সরকারের দুই বছর পূর্তি ঘিরে বিক্ষোভ, জাকার্তায় ৯৫০০ পুলিশ মোতায়েন

>> পুলিশ হাউজিংয়ে মাদক উদ্ধারের পর অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত

>> পূজা দেখা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ

>> স্বর্ণ ও হীরা ব্যবসার আড়ালে ৬৭৮ কোটি টাকার লেনদেন, দিলীপ আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড

>> ঢাকা বন বিভাগে বনভূমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ, তদন্তের দাবি

>> ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে শফিকুর রহমান—‘তিনি হয়তো ভালো নিয়তে করেছেন’

>> ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

>> অভিযোগের পরও মতিঝিল ভ্যাট বিভাগে আবু হানিফ, তদন্ত ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন

আপনি পড়ছেন : বিশ্ব

পাকিস্তানে আতঙ্কের মধ্যে দেশে ফেরার প্রস্তুতি, হামলায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি রমজানের


Rabeya ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৪৫



পাকিস্তানে আতঙ্কের মধ্যে দেশে ফেরার প্রস্তুতি, হামলায় প্রাণ গেল বাংলাদেশি রমজানের

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক রমজান আলী (৫২)। কিন্তু দেশে ফেরার আগেই সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর মরদেহ পাকিস্তানের কোয়েটার একটি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।

রমজান আলীর বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পাকিস্তানে বসবাস করছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেলুচিস্তানের পিশিন জেলার জিয়ারাত ক্রস এলাকার একটি কাস্টমস হাউসে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি।

পরিবার জানায়, মৃত্যুর মাত্র পাঁচ দিন আগে ছোট বোন মঞ্জুরা বেগমের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন রমজান। সে সময় বেলুচিস্তানে চলমান গোলাগুলি নিয়ে নিজের আতঙ্কের কথা জানান তিনি। দ্রুত দেশে ফিরে আসার ইচ্ছার কথাও জানান।

রমজানের স্বজনেরা জানান, কয়েক মাস আগেই বাংলাদেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন তিনি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির জন্য পরিবারের সদস্যরা সহায়তা করেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমেও তাঁর দেশে ফেরার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছিল। চলতি সপ্তাহেই তাঁর বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল বলে পরিবার জানিয়েছে।

হামলায় নিহত

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট রাত থেকে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেলুচিস্তানের পিশিন জেলার জিয়ারাত ক্রস এলাকায় একটি কাস্টমস হাউসে সন্ত্রাসী হামলা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হন। একই অভিযানে বেশ কয়েকজন হামলাকারীও নিহত হয়।

পরিবারের দাবি, নিহতদের একজন ছিলেন বাংলাদেশি রমজান আলী। কোয়েটায় থাকা এক বাংলাদেশির কাছ থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর পান স্বজনেরা।

দেশে ফিরে ব্যবসার পরিকল্পনা ছিল

পরিবারের সদস্যরা জানান, দেশে ফিরে একটি ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন রমজান। এ উদ্দেশ্যে প্রায় চার লাখ টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। এমনকি তাঁর জন্য বাড়ির লোকজন একটি দোকানও ভাড়া করে রেখেছিলেন।

১৯৮৯ সালে ১৮ বছর বয়সে পাকিস্তানে যান রমজান। দীর্ঘ সময় সেখানে থাকার পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিবারের সঙ্গে আবার যোগাযোগ শুরু হয়। মৃত্যুর আগে দেশে ফেরার ব্যাপারে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছিলেন।

মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ

বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রমজান আলী কিছুদিন আগে দেশে ফেরার জন্য হাইকমিশনে আবেদন করেছিলেন। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। তবে এর মধ্যেই তিনি হামলায় নিহত হন।

হাইকমিশনের পক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য পাকিস্তান সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। অনাপত্তিপত্রসহ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

রমজানের পরিবারও জানিয়েছে, মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে তারা বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।