বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬
১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া শিশুকে হাসপাতালে নিলেন মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি

>> গ্যারেজে বিলাসবহুল গাড়ির সংগ্রহ, বাস্তবে কেমন চালক ছিলেন মহানায়ক উত্তমকুমার

>> পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ধ্বংস প্রায় ২ লাখ বোতল ফেনসিডিল

>> ফিতরাতভিত্তিক ব্যাখ্যাতত্ত্ব: হাকিকত বোঝার পথে মানুষের পাঠ

>> ‘আব্বু, দোয়া করো’ বলে আন্দোলনে গিয়েছিলেন রাসেল, তিন দিন পর হাসপাতালে মৃত্যু

>> ট্রাফিক আইন ভাঙার অভিযোগে বিমানমন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে দুই মামলা

>> ঝুট কাপড়েই সৈয়দপুরে শত কোটি টাকার পোশাকের বাণিজ্য

>> সোনাদিয়া চ্যানেলে ট্রলারডুবি, প্রাণ গেল দুই জেলের; নিখোঁজ আরও দুজন

>> তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ লাখ টাকার প্যাকেজ, আবেদন করতে লাগবে যে যোগ্যতা

>> স্যাম্পল দেখেই দেশি-বিদেশি যন্ত্র বানান সৈয়দপুরের কারিগরেরা

আপনি পড়ছেন : বিশ্ব

‘আব্বু, দোয়া করো’ বলে আন্দোলনে গিয়েছিলেন রাসেল, তিন দিন পর হাসপাতালে মৃত্যু


Rabeya ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৪:৫৭



‘আব্বু, দোয়া করো’ বলে আন্দোলনে গিয়েছিলেন রাসেল, তিন দিন পর হাসপাতালে মৃত্যু


‘আমি আন্দোলনে যাচ্ছি, আব্বু আমার জন্য দোয়া করো’—২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে বাবার সঙ্গে ফোনে এ কথাই বলেছিলেন রাসেল রানা। কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর বাবা পিন্টু রহমান জানতে পারেন, আন্দোলনে গিয়ে ছেলের বুকে গুলি লেগেছে। তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২২ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রাসেল।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দিয়েছেন রাসেলের বাবা পিন্টু রহমান। মামলায় তিনি চতুর্থ সাক্ষী।

জবানবন্দিতে পিন্টু রহমান জানান, ১৯ জুলাই বিকেল চারটার দিকে ছেলে রাসেল তাঁকে ফোন করে পরিবারের খোঁজ নেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, আন্দোলনে যাওয়ার কথা জানিয়ে বাবার কাছে দোয়া চান।

পিন্টু রহমান বলেন, সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাসেলের এক বন্ধুর ফোন থেকে তাঁর কাছে কল আসে। পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাঁকে জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে রাসেল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁর বুকে গুলি লেগেছে এবং অবস্থা আশঙ্কাজনক। রাসেলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয় এবং তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে যেতে বলা হয়।

তবে নওগাঁয় তখন কারফিউ চলায় তিনি ঢাকায় আসতে পারেননি বলে জানান পিন্টু রহমান। রাসেল নারায়ণগঞ্জে থাকতেন এবং সেখানে একটি কারখানায় কাজ করতেন। ছেলের কর্মস্থলের মালিক বুলবুল ও তাঁর চাচাতো ভাই রফিকুলকে হাসপাতালে পাঠান তিনি।

পিন্টুর ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ জুলাই সকালে বুলবুল ফোন করে তাঁকে রাসেলের মৃত্যুর খবর দেন। পরে রাসেলের মরদেহ নওগাঁর বাড়িতে নিয়ে আসার অনুরোধ করেন তিনি। অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে রাসেলকে দাফন করা হয়।

জবানবন্দিতে পিন্টু রহমান আরও বলেন, পত্রপত্রিকা, ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, রাসেল গুলিবিদ্ধ হওয়ার দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে।

তাঁর দাবি, সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, টিটু, ভিকি, সাংবাদিক রাজু, রিয়াদ, ডিস বাবুসহ নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা চাষাঢ়া থেকে বিবি রোড ও নয়ামাটি এলাকার দিকে যাওয়ার সময় গুলি চালান।

এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেছেন রাসেলের বাবা পিন্টু রহমান।

মামলার নথি অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় আসামি রয়েছেন মোট ১২ জন। তাঁদের মধ্যে শামীম ওসমানের পরিবারের সদস্য ও স্বজনও রয়েছেন। অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, মো. মিনহাজ উদ্দিন আহম্মদ ও তানভির আহম্মেদ তাঁদের মধ্যে অন্যতম। মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক।