বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ধানমন্ডিতে বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনায় যুবক আটক

>> টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

>> বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকার মারামারি, ভাইরাল ভিডিও

>> বনানী বিদ্যানিকেতনে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

>> নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় ব্যবস্থা নেবে সরকার

>> রাস্তা বন্ধ থাকায় ঘর ভেঙে মরদেহ নিয়ে গেলেন এলাকাবাসী

>> নিরাপত্তার কারণে কারাগারে রেখেই জিয়াউল আহসানের বিচার

>> নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে ঘিরে বিক্ষোভ, হেনস্তার অভিযোগ

>> এনসিটির ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে গণঅনশন

>> নারায়ণগঞ্জে অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগ, তিতাস কর্মকর্তা আজাদ ও ঠিকাদারদের ঘিরে প্রশ্ন

আপনি পড়ছেন : বিশ্ব

ইরানকে সমর্থনের ঘোষণা পুতিনের, ‘হাঙরের’ দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি


Rabeya ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৪:০২



ইরানকে সমর্থনের ঘোষণা পুতিনের, ‘হাঙরের’ দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি


ইউক্রেন যুদ্ধ আরও তীব্র করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরানের পাশে থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর এসব মন্তব্য করেন পুতিন। ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করতেও তিনি আগ্রহী বলে জানান।

পুতিন বলেন, যাঁদের তিনি ভালোভাবে চেনেন এবং যাঁদের ওপর আস্থা রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উইটকফ ও কুশনার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং তাঁরা সরাসরি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

সম্প্রতি সিআইএর পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের মস্কো সফর নিয়েও কথা বলেন পুতিন। তিনি জানান, স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তবে বর্তমানে এ ধরনের যোগাযোগ অনেকটাই সীমিত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জাহাজ ও বিভিন্ন স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে আসছে। এসব হামলার কারণে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

পাল্টা হিসেবে ইউক্রেনের বিভিন্ন অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। রুশ বাহিনী জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলোতে হামলার কারণে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানিও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

পুতিন দাবি করেছেন, ইউক্রেনের হামলায় গত ৪০ দিনে রাশিয়ার প্রায় ১০০টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে দেশটির যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, তা মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় এক শতাংশের সমান বলে দাবি করেন তিনি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ ভূখণ্ডে ড্রোন হামলার কারণে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় পুতিন ইউক্রেনের কর্মকাণ্ডকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাশিয়ায় নতুন করে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটিও নাকচ করে দিয়েছেন পুতিন। তিনি এ ধরনের আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন।

ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা

এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন পুতিন। বৈঠকে ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দেশটির জনগণের সাহস ও দৃঢ়তার প্রতি রাশিয়ার সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

পুতিন বলেন, কঠিন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে মস্কো। দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের কথাও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যেই রাশিয়ার এই সমর্থনের ঘোষণা এলো। কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষ আবারও পরস্পরের ওপর হামলা শুরু করেছে।

‘ক্ষুধার্ত হাঙর’ প্রসঙ্গ

বিশকেকে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোর প্রসঙ্গে ‘হাঙর’-এর উপমা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, সোভিয়েত আমলে পশ্চিমা শক্তিগুলোকে ‘সাম্রাজ্যবাদের হাঙর’ হিসেবে বর্ণনা করা হতো।

পুতিনের ভাষ্য, কেউ যদি রাশিয়াকে খাদ্যশৃঙ্খলের নিচে নামিয়ে দিতে, গ্রাস করতে বা গিলে ফেলতে চায়, তাহলে রাশিয়া তার দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেন, এসব ‘হাঙরের’ ক্ষুধা ও দাঁত যতই বাড়ুক, রাশিয়াও তাদের মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।