১৯৬৭ সালে নাসার লুনার অরবিটার-৩ মহাকাশযানের তোলা চাঁদের পৃষ্ঠের একটি পুরোনো ছবিকে ঘিরে নতুন করে ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় ছয় দশক আগের ওই ছবিতে দেখা দীর্ঘ আকৃতির একটি বস্তুকে নিয়েই মূলত এই জল্পনা তৈরি হয়েছে।
ইউএফও গবেষক স্কট ওয়ারিংয়ের দাবি, ছবিতে দেখা বস্তুটি চাঁদের স্বাভাবিক ভূপ্রকৃতির অংশ নয়; এটি ভিনগ্রহের কোনো মহাকাশযান হতে পারে। থিওফিলাস নামের একটি জ্বালামুখের আকারের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বস্তুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ৪ মাইল বা ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার বলে দাবি করেছেন।
ওয়ারিংয়ের মতে, পৃথিবীর মানুষের কাছে বস্তুটি বিশাল মনে হলেও ভিনগ্রহের কোনো সভ্যতার কাছে এটি ছোট আকারের একটি শাটল ক্রাফট হতে পারে।
তবে এসব দাবির পক্ষে নাসার কোনো আনুষ্ঠানিক বা স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। চাঁদ বা মঙ্গলে ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্বের দাবির বিষয়ে নাসা এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ করেনি।
এদিকে বিভিন্ন মার্কিন ইউএফও নথিতে অ্যাপোলো চন্দ্রাভিযানের সময় মহাকাশচারীদের অস্বাভাবিক কিছু দেখার তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছে। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ মিশনের সময় মহাকাশচারীরা মহাশূন্যে ঘূর্ণায়মান ও চকচকে একটি বস্তু দেখেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া অ্যাপোলো ১৬ মিশনের একটি অপ্রকাশিত ব্রিফিংয়ে চাঁদের অন্ধকার অংশে সম্ভাব্য কোনো ‘এলিয়েন স্টারবেজ’ বা ভিনগ্রহীদের ঘাঁটির উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।
তবে চাঁদের ছবিতে দেখা ওই রহস্যময় বস্তু বা অ্যাপোলো মিশনের ঘটনাগুলোকে ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার মতো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই।