মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> গলাচিপায় বিএনপির মিছিলে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নামে স্লোগান, তদন্ত কমিটি

>> মিরপুর বিআরটিএতে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ, হয়রানি ও চাঁদাবাজির দাবি

>> তানজিন তিশার জামিনের মেয়াদ বাড়ল, আদালত থেকে বের হয়ে যা বললেন

>> বাকলিয়ায় সংঘর্ষের নেপথ্যে মাদক ও আধিপত্যের দ্বন্দ্ব

>> ট্র্যাকিংয়ে গিয়ে পথ হারাচ্ছেন পর্যটকেরা, কাপ্তাইয়ের সীতাপাহাড়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

>> ভাঙা কক্ষেই টিকা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা রাড্ডা সেন্টারে

>> যখন সময় হবে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হবে: দীনেশ ত্রিবেদী

>> ইটভাটায় ডেকে ছাত্রলীগ নেতার হাত-পায়ের রগ কাটার অভিযোগ, ৪ বন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা

>> নতুন গণভোট নিয়ে সরকারের কাছে তিন প্রশ্ন জামায়াত নেতা আযাদের

>> রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাবেক ওসি রাকিবুল আবার রিমান্ডে

আপনি পড়ছেন : বিশ্ব

সাংবাদিকতা থেকে পর্নো তারকা, সেখান থেকে কলম্বিয়ার সিনেটে দেইসির নতুন যাত্রা


Rabeya ৩১ জুলাই ২০২৬, সকাল ৮:৫৮
সাংবাদিকতা থেকে   পর্নো তারকা,  সেখান থেকে কলম্বিয়ার সিনেটে দেইসির নতুন যাত্রা

কলম্বিয়ার নতুন সিনেটর দেইসি আলেজান্দ্রা ওমানা অর্টিজের জীবনযাত্রা নানা বাঁকে ভরা। সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও পরে তিনি প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনশিল্পে যুক্ত হন। সেই পরিচিতি পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে দেশের উচ্চকক্ষে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

৩৩ বছর বয়সী দেইসি সম্প্রতি বামপন্থী রাজনৈতিক জোট হিস্টোরিক প্যাক্ট ফর কলম্বিয়া–এর মনোনয়নে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। রাজধানী বোগোটায় অনুষ্ঠিত শপথ অনুষ্ঠানের পর তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

দেইসি ২০১৭ সালে সাংবাদিকতা ছেড়ে প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনশিল্পে যোগ দেন এবং সেখানে ‘আমারান্তা হাঙ্ক’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি সেই পেশা থেকে সরে এসে রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন।

রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনশিল্পে কর্মরত ব্যক্তিদের শ্রম অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আইনি সুরক্ষার বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করেন। তাঁর মতে, এ খাতের কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের শোষণ ও বৈষম্যের শিকার হলেও তাদের সুরক্ষার জন্য কার্যকর নীতিমালা গড়ে ওঠেনি।

গত মার্চে কলম্বিয়ার নর্তে দে সান্তান্দার অঞ্চল থেকে সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি বলেন, ভুল ধারণা, সামাজিক কুসংস্কার এবং দ্বৈত মানদণ্ডের কারণে এই শিল্পে কর্মরত নারীরা রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

রাজনীতিতে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। অনেকেই অতীত পেশার কারণে তাঁর প্রার্থিতার বিরোধিতা করেন। তবে দেইসি স্পষ্টভাবে বলেন, অতীতের পেশা কোনো নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার বা নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনশিল্পে কাজ করেছেন বলে কেউ কেন জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারবেন না?

নিজের বক্তব্যে তিনি ইতালির সাবেক আইনপ্রণেতা ইলোনা স্টালারের উদাহরণও তুলে ধরেন, যিনি অতীতে একই ধরনের পেশায় যুক্ত ছিলেন এবং পরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

দেইসির ভাষ্য, জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তাঁকে বৈষম্য, প্রান্তিক মানুষের সংগ্রাম এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা কাছ থেকে বুঝতে সাহায্য করেছে। এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি সংসদে সাধারণ মানুষের অধিকার ও সামাজিক ন্যায্যতার বিষয়গুলো তুলে ধরতে চান।

বর্তমানে তিনি মানসম্মত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনশিল্পে কর্মরত ব্যক্তিদের আইনি ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন।