সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ছাত্রদের তিনটি আবাসিক হলে কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়ে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নামে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ঘটনা ঘটেছে। বিজ্ঞপ্তিটি কোথা থেকে প্রকাশ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর প্রতিবাদে শনিবার রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি অভ্যন্তরীণ ফেসবুক গ্রুপ এবং ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে বিজ্ঞপ্তিটি ছড়িয়ে পড়ে। এতে শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি খলিলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সজিবুর রহমানের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের তিনটি আবাসিক হলের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য আগ্রহী পদপ্রত্যাশীদের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় জীবনবৃত্তান্ত পাঠাতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। এর প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহপরাণ হলের সামনে থেকে মিছিল বের করে শাখা ছাত্রদল।
সংগঠনের সভাপতি রাহাত জামানের নেতৃত্বে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের তিনটি আবাসিক হল প্রদক্ষিণ করে আবার শাহপরাণ হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আদনান মোহন বলেন, ক্যাম্পাসের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ আবার কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে বলে তাঁরা মনে করছেন। হল কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তিকে তিনি সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান বলেন, নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটি গঠনের উদ্যোগ আইন ও ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য চ্যালেঞ্জ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিক্ষোভ ও সমাবেশে ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. সোহাগ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে বিজ্ঞপ্তিটি কারা প্রকাশ করেছে, এর সত্যতা কতটুকু এবং স্বাক্ষরকারীদের নামে এটি সত্যিই প্রকাশ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট ছাত্রলীগ নেতাদের বক্তব্য প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।