সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলে বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে সেটি অন্যায় হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
বুধবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিট সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার আগে জামায়াতে ইসলামী সরকারি প্লট ও শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। পরে সংসদেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার এক বছরের মধ্যে এক থেকে দেড় কোটি নতুন কর্মসংস্থানের কথা বলেছিল। কিন্তু বর্তমানে অনেক মানুষ কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।
সম্প্রতি রাজধানীতে যানবাহনে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা প্রত্যাখ্যান করেন শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, জামায়াত নিজেদের কর্মসূচি সফল করতে চায় এবং কর্মসূচি বানচাল করার জন্য কেউ এমন পরিস্থিতি তৈরি করে থাকলে দায় তাদের।
সংসদে বিরোধী দলের দেওয়া বিভিন্ন নোটিশ আলোচনায় না আনার অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিশুদের ওপর সহিংসতা এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁরা নোটিশ দিয়েছেন।
জামায়াতের জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো সরকার গুরুত্ব না দেওয়ায় রাজপথে আন্দোলনে নামতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ব্যবহৃত হয়। দাম বাড়ানোর ফলে মানুষের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে। তাঁর মতে, জ্বালানির দাম নিয়ে অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করার ক্ষেত্রে সেসব দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
বর্তমান সরকারের সময়ে কয়েক দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি বাইকচালক, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ওপর পড়ে।
নির্বাচনের পর সাক্ষাৎকার কম দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, তাঁর সাক্ষাৎকারের বক্তব্য অনেক সময় খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। তাঁর দাবি, এতে বক্তব্যের মূল অর্থ পরিবর্তিত হয়ে পাঠকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত সরকারি খরচে বিদেশ সফর করেননি এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তিনি সতর্ক রয়েছেন।
মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।