মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> বনানী বিদ্যানিকেতনে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা

>> নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় ব্যবস্থা নেবে সরকার

>> রাস্তা বন্ধ থাকায় ঘর ভেঙে মরদেহ নিয়ে গেলেন এলাকাবাসী

>> নিরাপত্তার কারণে কারাগারে রেখেই জিয়াউল আহসানের বিচার

>> নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে ঘিরে বিক্ষোভ, হেনস্তার অভিযোগ

>> এনসিটির ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে গণঅনশন

>> নারায়ণগঞ্জে অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগ, তিতাস কর্মকর্তা আজাদ ও ঠিকাদারদের ঘিরে প্রশ্ন

>> রবীন্দ্রনাথ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্কে জামায়াতকে ঘিরে রাশেদ খাঁনের অভিযোগ

>> পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, ভোট শুরু ২১ জানুয়ারি

>> জি এম কাদেরের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তারের দাবি

আপনি পড়ছেন : রাজনীতি

সাড়ে পাঁচ মাস পর হুইলচেয়ারে সংসদে মির্জা আব্বাস, দিলেন আবেগঘন বক্তব্য


৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১২



সাড়ে পাঁচ মাস পর হুইলচেয়ারে সংসদে মির্জা আব্বাস, দিলেন আবেগঘন বক্তব্য


প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর হুইলচেয়ারে করে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। চিকিৎসা এখনো চলমান রয়েছে জানিয়ে বৃহস্পতিবার সংসদে তিনি একটি আবেগঘন লিখিত বক্তব্য দেন।

বক্তব্য দেওয়ার সময় মির্জা আব্বাস নিজের আসনে যেতে পারেননি। সংসদে সরকারি দলের সদস্যদের দুই সারির মাঝের চলাচলের জায়গায় হুইলচেয়ারে বসেই বক্তব্য দেন তিনি। বিএনপির সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান পাশের আসন থেকে তাঁকে বক্তব্য দিতে সহযোগিতা করেন। এ সময় সংসদে নীরব পরিবেশ তৈরি হয় এবং প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি ও বিরোধী দলের অনেক সদস্যকে আবেগাপ্লুত দেখা যায়।

মির্জা আব্বাস জানান, নির্বাচনের পরপরই একটি সভায় গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর পুনর্বাসন চিকিৎসা বা রিহ্যাব চলছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সংসদে নিয়মিত উপস্থিত থাকার ইচ্ছা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।

চিকিৎসা চলার মধ্যেই সংসদে ফিরতে পেরে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। কঠিন সময়ে যারা তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া করেছেন, খোঁজ নিয়েছেন এবং পাশে থেকেছেন, তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের এই দিনটিকে অত্যন্ত আবেগঘন ও স্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ২০০৬ সালের পর প্রায় দুই দশক পেরিয়ে আবারও জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এ মুহূর্তকে তিনি আনন্দ ও গর্বের বলে বর্ণনা করেন।

অসুস্থতার সময়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার নিয়মিত খোঁজ নেওয়ায় তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

বিশেষভাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, স্পিকার নিজে সিঙ্গাপুরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সে সময় তিনি অচেতন থাকায় স্পিকারকে দেখতে পারেননি। পরে বিষয়টি জানতে পারেন।

একজন অসুস্থ সংসদ সদস্যের প্রতি স্পিকারের এই মানবিক আচরণ তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে বলেও জানান মির্জা আব্বাস। তাঁর ভাষায়, এটি শুধু একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা নয়, বরং সংসদীয় গণতন্ত্রের মানবিক দিকেরও প্রকাশ।

সংসদে ফিরে রাজনীতি সম্পর্কে নিজের উপলব্ধির কথাও তুলে ধরেন তিনি। মির্জা আব্বাস বলেন, জাতীয় রাজনীতি শুধু মতপার্থক্যের জায়গা নয়; রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষ। একইভাবে সংসদ কেবল সংসদ সদস্যদের জন্য নয়, এটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, ‘আমি ফিরে এসেছি মানুষের কাছে, মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করার জন্য।’

আগামী দিনগুলোতে নিজের নির্বাচনী এলাকার পাশাপাশি দেশের মানুষের জন্য নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে রাজনীতি ও জনসেবায় কাজ করতে সবার দোয়া চান মির্জা আব্বাস।

দল-মত নির্বিশেষে তাঁর সুস্থতা কামনা করে যারা দোয়া ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে শুভকামনা জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। সবার ভালোবাসা, শুভকামনা ও দোয়া কঠিন সময় পার করার সাহস জুগিয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা।