চট্টগ্রামে অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার অতিরিক্ত চিফ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে পুলিশ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরী জানান, সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় তদন্তের স্বার্থে ৬৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের জন্য দুই দিনের রিমান্ড অনুমোদন করেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ওই ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আদালতে নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাঁদের আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরের খুলশী থানার জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা-পুলিশ। সেখান থেকে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন, নেপালের ১ জন এবং ভিয়েতনামের ১ জন নাগরিক রয়েছেন। অভিযানের সময় তাঁদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ মোট ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে খুলশী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করে। পরদিন শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে, ওই বিদেশি নাগরিকদের সহায়তা এবং তাঁদের পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখার অভিযোগে মোহাম্মদ মহসিন নামের এক স্থানীয় ব্যক্তিকে শনিবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা মহসিন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।
পুলিশ জানায়, কয়েক দিন আগে মহসিন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ১১৮ গ্রাম কোকেন ঢাকার এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন। পরে চালানটি তাঁর কাছে ফেরত আসে। ওই কোকেনের সূত্র ধরে তদন্ত চালাতে গিয়ে পুলিশ ৬৩ বিদেশি নাগরিকের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পায়।
এখন রিমান্ডে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অনলাইন প্রতারণার কার্যক্রম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং পুরো চক্র সম্পর্কে আরও তথ্য বের করার চেষ্টা করবে পুলিশ।