গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ওই ভবন থেকে ৬৩ বিদেশিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের কাছ থেকে মোট ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে লাওস, পাকিস্তান, চীন, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের কারও কাছে পাসপোর্ট ও ভিসা পাওয়া যায়নি। এসব নথি বাংলাদেশি একটি চক্রের সদস্যদের কাছে রয়েছে বলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। ওই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বিদেশি নাগরিকদের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় সহযোগীদের সহায়তায় ওই ভবনটি ব্যবহার করছিল। প্রায় দেড় মাস আগে ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ বলছে, কখনো নিজেদের ওয়েবসাইট তৈরি করে আবার কখনো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হতো বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ব্যাংক ও বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।
তবে চক্রটি ঠিক কত টাকা হাতিয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত নয়। জব্দ করা মোবাইল, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষা করা হলে প্রতারণার ধরন ও নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চক্রটির মাঠপর্যায়ের কর্মী হতে পারেন। মূল হোতাদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের একটি হোটেল থেকে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজারের ওই ঘটনার সঙ্গে খুলশীতে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এ ঘটনায় খুলশী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।