বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> বিদ্যালয় থেকে শিশুকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, ‘মেয়েধরা’ সন্দেহে নারীকে মারধর

>> যন্তর মন্তরের পথে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, পুলিশের বাধায় আটক বিরোধী নেতারা

>> বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতা ঝোলানোর অভিযোগে যুবক আটক

>> মেসির বিদায়ী বক্তব্য: ‘আজ আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বিষাদময় দিন’

>> বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় শিশুকে ফেলে পালায় অপহরণকারীরা, ১৮ দিন পর উদ্ধার

>> ওসমানী উদ্যানের অবকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন, প্রতিমন্ত্রী বললেন—‘পৃথিবীর কোথাও এমন দেখিনি’

>> ছেলের পর বাবাও খুন, আতঙ্কে পরিবার—‘মামলা করব না, পুলিশ যা করার করবে’

>> পটুয়াখালীতে বনের গাছ কেটে জমি দখলের অভিযোগ, বন বিভাগের জিডি

>> ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪২, মুচলেকায় মুক্ত

>> ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নতুন নির্দেশনা আইভ্যাকের

আপনি পড়ছেন : চট্টগ্রাম

জশনে জুলুসে মুখর চট্টগ্রাম, অংশ নিলেন লাখো মানুষ


Rabeya ২৬ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১২:৩৩



জশনে জুলুসে মুখর চট্টগ্রাম, অংশ নিলেন লাখো মানুষ


পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৫৫তম জশনে জুলুস। সকাল থেকেই নগরের ষোলশহর ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ব্যাপক সমাগম দেখা যায়। বিভিন্ন বয়সী মানুষ হামদ-নাত, দরুদ শরিফ, জিকির ও তাকবিরে অংশ নেন।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা-সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে জশনে জুলুসের কার্যক্রম শুরু হয়। নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে যোগ দেন।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল চট্টগ্রামে এ জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) এর প্রবর্তন করেন। এবার ছিল আয়োজনটির ৫৫তম বছর।

জুলুসে নেতৃত্ব দেন সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ।

ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ষোলশহরে জড়ো হতে থাকেন। অনেকে হেঁটে, আবার অনেকে ট্রাক ও পিকআপে করে জুলুসে অংশ নেন। পুরো এলাকায় ধর্মীয় সঙ্গীত, কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত ও দরুদ শরিফের ধ্বনি শোনা যায়।

জুলুসকে কেন্দ্র করে মুরাদপুর থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত বসে অস্থায়ী বিভিন্ন দোকান। সেখানে আতর, টুপি, তসবিহ, মেসওয়াক, পাঞ্জাবি, পায়জামা, জুলুসের পতাকা ও খাবারসহ নানা পণ্য বিক্রি হয়। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পানি, শরবত ও খেজুর বিতরণ করা হয়।

জুলুস উপলক্ষে নগরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় সাজানো হয় তোরণ, পতাকা, ফেস্টুন ও ব্যানারে। সবুজ পতাকা ও নানা সাজসজ্জায় জুলুসের পুরো পথ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার জন্য মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী শৌচাগারের ব্যবস্থাও করা হয়।

নির্ধারিত রুট অনুযায়ী জুলুসটি ষোলশহর থেকে বিবিরহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাস হয়ে নির্ধারিত জুলুস ময়দানে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।

বড় জমায়েতকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়।

গত বছরের জশনে জুলুসে পদদলিত হয়ে দুজনের মৃত্যু এবং কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। তাই এবার নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে দুপুর পর্যন্ত বড় কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

নগর পুলিশ জানিয়েছে, জুলুসকে কেন্দ্র করে অস্ত্র বহন বা প্রদর্শনসহ কিছু কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বড় এই ধর্মীয় সমাবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।