বুধবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> সফর শেষে ঢাকা ছাড়লেন আইপিইউ মহাসচিব

>> জয়পুরহাটে হাতকড়া পরেই মায়ের জানাজায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

>> ‘কখনো কখনো মনে হয়, বেঁচে থাকাটাই অর্থহীন’—নেপালের বন্যায় স্বজনহারা শ্রমিক

>> রোগীর মৃত্যু নিয়ে সংঘর্ষ, চার ছাত্রদল নেতাসহ ৬ জন আটক

>> হাসপাতালে জ্বালানিমন্ত্রীকে দেখতে গেলেন রাষ্ট্রপতি

>> চট্টগ্রাম বিআরটিএ অফিসে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ, সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

>> চোট নিয়ে ব্যাটিং না করায় ইমামের বিরুদ্ধে তদন্ত, ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত

>> টাঙ্গাইলের চাকরি মেলায় ৪৪৬ জনের তাৎক্ষণিক নিয়োগ, আরও চাকরি পাবেন ১,৫৮১ জন

>> ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড পুনর্গঠন, যুক্ত হলেন দুই সংসদ সদস্য ও তিন আলেম

>> লিবিয়ার বন্দিশিবির থেকে ফিরলেন দুই বাংলাদেশি, বললেন দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা

আপনি পড়ছেন : বিনোদন

ছায়ার অন্ধকারে আধ্যাত্মিকতার আলো: সান্তু মোফোকেংয়ের ‘চেসিং শ্যাডোস’


২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৫১



ছায়ার অন্ধকারে আধ্যাত্মিকতার আলো: সান্তু মোফোকেংয়ের ‘চেসিং শ্যাডোস’


দক্ষিণ আফ্রিকার আলোকচিত্রী সান্তু মোফোকেংয়ের আলোকচিত্র সিরিজ ‘চেসিং শ্যাডোস’ দেশটির পোস্ট-অ্যাপার্টহেইড সময়ের আধ্যাত্মিক জীবনকে ভিন্ন এক দৃষ্টিতে তুলে ধরে। ধর্মীয় আচার, পবিত্র ভূদৃশ্য, পূর্বপুরুষের স্মৃতি এবং মানুষের বিশ্বাস—সবকিছু মিলিয়ে এই সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার জটিল আধ্যাত্মিক বাস্তবতার অনুসন্ধান দেখা যায়।

মোফোকেংয়ের ক্যামেরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকটি পবিত্র গুহা। ফ্রি স্টেট ও লেসোথোর সীমান্তবর্তী মটোউলেং ও মাউৎসে গুহা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এসব গুহা শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান নয়; স্থানীয় মানুষের কাছে এগুলো স্মৃতি, পূর্বপুরুষ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এক আধ্যাত্মিক পরিসর।

গুহার ভেতরে ধর্মীয় জীবনের আলাদা জগৎ

সিরিজটির ছবিতে দেখা যায়, কৃষ্ণাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকান নারী, পুরুষ ও শিশুরা বিভিন্ন পবিত্র স্থানে সমবেত হয়েছেন। কেউ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে, কেউ আফ্রিকান স্বাধীন চার্চের ধর্মীয় পোশাকে, আবার কারও পোশাকে স্থানীয় সংস্কৃতি ও খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্যের সম্মিলিত প্রভাব রয়েছে।

সাদা পোশাক, মাথা ঢাকা কাপড়, মোমবাতি, ধোঁয়া ও পাথুরে গুহার পরিবেশ ছবিগুলোকে একটি বিশেষ আবহ দিয়েছে। কোথাও উপাসকেরা মাটির কাছে হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা করছেন, কোথাও নারীরা চোখ বন্ধ করে সম্মিলিতভাবে গান গাইছেন। আবার কোনো ছবিতে গুহার দেয়ালে সারি সারি মোমবাতি জ্বলতে দেখা যায়।

পাথর, মাটি, ধোঁয়া, পোশাক ও মানুষের উপস্থিতি এখানে আলাদা কোনো উপাদান নয়। সবকিছু মিলে যেন ধর্মীয় আচারটিরই অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে গুহাটি কেবল প্রার্থনার জায়গা হিসেবে নয়, বরং আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার সক্রিয় অংশ হিসেবেও সামনে আসে।


আরও পড়ুন: মাই রিকশা, মাই রুল 



অ্যাপার্টহেইড-পরবর্তী বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

‘চেসিং শ্যাডোস’-এর গুরুত্ব বুঝতে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৯৯৪-পরবর্তী সময়ের দিকে তাকাতে হয়। অ্যাপার্টহেইডের আনুষ্ঠানিক অবসানের পর দেশটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। রাজনৈতিক অধিকার বিস্তৃত হয় এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন আসে।

তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা পুরোপুরি বদলে যায়নি। গ্রাম ও টাউনশিপের বহু মানুষের জীবনে বৈষম্য, বঞ্চনা এবং বিচ্ছিন্নতার প্রভাব রয়ে যায়। অ্যাপার্টহেইডের আইন শেষ হলেও তার রেখে যাওয়া সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষত অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘস্থায়ী হয়।

এই বাস্তবতার মধ্যেই পবিত্র গুহাগুলো মানুষের কাছে বিশেষ তাৎপর্য পায়। এগুলো হয়ে ওঠে এমন এক জায়গা, যেখানে মানুষ নিজেদের বিশ্বাস, স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে।

পূর্বপুরুষের বিশ্বাস ও খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্যের সহাবস্থান

মোফোকেংয়ের ছবিতে আফ্রিকান আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের সঙ্গে খ্রিষ্টীয় ধর্মীয় আচারের একটি জটিল সম্পর্ক ফুটে ওঠে। সোথো ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যবহৃত ‘বাডিমো’ শব্দটি পূর্বপুরুষ বা পূর্বপুরুষের আত্মাকে বোঝায়।

এই বিশ্বাসে পূর্বপুরুষেরা মৃত্যুর পর সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান না; বরং জীবিত মানুষের সঙ্গে তাঁদের আত্মিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকে বলে মনে করা হয়। প্রার্থনা, শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁদের আশীর্বাদ কামনা সেই বিশ্বাসের অংশ।

তবে এই সম্পর্ককে কেবল দুটি ধর্মের সরল সংমিশ্রণ হিসেবে দেখলে বিষয়টি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। স্থানীয় বিশ্বাস, পূর্বপুরুষের স্মৃতি, নিরাময়ের আচার এবং খ্রিষ্টীয় প্রতীক দীর্ঘ সাংস্কৃতিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে একটি স্বতন্ত্র আধ্যাত্মিক পরিসর তৈরি করেছে।

প্রচলিত আলোকচিত্রের দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে

দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের জীবনকে বিশ শতকের শেষভাগের সংবাদ আলোকচিত্রে অনেক সময় রাজনৈতিক সংঘাত, দমন-পীড়ন, দারিদ্র্য ও সহিংসতার মধ্যেই তুলে ধরা হতো। ফলে তাঁদের আধ্যাত্মিক জীবন ও অন্তর্জগত অনেকটাই আড়ালে থেকে যেত।

মোফোকেং সেই প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে এসে মানুষের বিশ্বাস, প্রার্থনা, স্মৃতি, নীরবতা ও আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানকে ছবির কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।

তাঁর আলোকচিত্রে মানুষ শুধু ইতিহাসের শিকার নয়। তাঁরা নিজেদের আধ্যাত্মিক জগতের নির্মাতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক। এই পরিবর্তন কেবল বিষয় নির্বাচনের পরিবর্তন নয়, বরং দেখার পদ্ধতিরও পরিবর্তন।

গুহা হয়ে ওঠে সাংস্কৃতিক স্বায়ত্তশাসনের জায়গা

মোফোকেংয়ের ছবিতে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক স্লোগান বা প্রতিবাদের দৃশ্য নেই। রাজনৈতিক নেতা, পতাকা কিংবা মিছিলও নেই। তবু ছবিগুলোর ভেতরে ভূমি, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের ওপর মানুষের অধিকার নিয়ে একটি গভীর রাজনৈতিক অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত এসব গুহা রাষ্ট্রীয় নজরদারি কিংবা করপোরেট নিয়ন্ত্রণের সরাসরি প্রভাব থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে। সেখানে মানুষ নিজেদের নিয়মে প্রার্থনা করে, গান গায়, আচার পালন করে এবং পূর্বপুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করে।

ফলে গুহাগুলো একধরনের স্বায়ত্তশাসিত সাংস্কৃতিক পরিসরে পরিণত হয়। যারা দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রান্তিকতার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, তারা এখানে এমন একটি জায়গা খুঁজে পায় যেখানে নিজেদের পরিচয় নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারে।

নারীর উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ

এই আধ্যাত্মিক সমাবেশে বর্ণ, লিঙ্গ ও শ্রেণির সম্পর্কও দৃশ্যমান হয়। বিশেষ করে অনেক ক্ষেত্রে নারীদের ধর্মীয় আচার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেখা যায়। তাঁরা শুধু অংশগ্রহণকারী নন, বরং পবিত্র স্থানগুলোর সামাজিক ও ধর্মীয় ধারাবাহিকতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা পালন করেন।

এ কারণে গুহার ধর্মীয় জীবনকে শুধু উপাসনা হিসেবে দেখলে এর সামাজিক তাৎপর্য পুরোপুরি বোঝা যায় না। এর সঙ্গে সাংস্কৃতিক ক্ষমতা ও পরিচয়ের প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে।

আলো ও অন্ধকারের প্রতীকী ভাষা

মোফোকেংয়ের সাদাকালো ছবিতে আলো-অন্ধকারের ব্যবহার বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। গুহার ভারী পাথুরে দেয়াল, ভেজা মাটি ও মানুষের শরীরের সঙ্গে মোমবাতির ক্ষুদ্র আলো একটি গভীর বৈপরীত্য তৈরি করে।

মোমবাতির আলো এখানে শুধু অন্ধকার দূর করার উপায় নয়। এটি বিশ্বাস, আশা এবং আধ্যাত্মিক উপস্থিতির প্রতীক হিসেবেও কাজ করে। অন্ধকারের বিশালতার মধ্যে ছোট্ট শিখাটি যেন মানুষের বিশ্বাসের স্থায়িত্বের ইঙ্গিত দেয়।

সাদা পোশাকও ছবিগুলোতে শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে উপস্থিত। পবিত্রতা, সুরক্ষা ও সম্মিলিত আশ্রয়ের ধারণা এর সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ সামাজিক আঘাত ও ঐতিহাসিক বঞ্চনার বিপরীতে এই পোশাক যেন একটি দৃশ্যমান আধ্যাত্মিক আবরণ তৈরি করে।

গুহা, মাটি ও পূর্বপুরুষের সম্পর্ক

গুহার গভীরতা ও পৃথিবীর অভ্যন্তরে এর অবস্থান একে মাতৃগর্ভের প্রতীকের কাছাকাছি নিয়ে আসে। জন্ম, আশ্রয় ও পুনর্জন্মের ধারণার সঙ্গে গুহার সম্পর্ক তৈরি হয়।

একই সঙ্গে গুহার মাটির কাছাকাছি অবস্থান মানুষ ও ভূমির সম্পর্ককে আরও স্পষ্ট করে। পূর্বপুরুষের স্মৃতি তখন কোনো দূরবর্তী অতীতের বিষয় থাকে না; বরং সেই স্মৃতি বর্তমান ভূমি ও মানুষের জীবনের মধ্যেই উপস্থিত বলে অনুভূত হয়।

বলির পশুর অবশেষও এই প্রতীকী ব্যবস্থার অংশ। জীবন, মৃত্যু, উৎসর্গ এবং বিশ্বাসের ধারাবাহিকতার মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।

ক্যামেরা কতটা ধরতে পারে?

‘চেসিং শ্যাডোস’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ক্যামেরা কি মানুষের অনুভূত সবকিছু সত্যিই ধারণ করতে পারে?

মোফোকেং আলোকচিত্রের তথাকথিত বস্তুনিষ্ঠতার ধারণাকে প্রশ্ন করেছেন। তাঁর কাছে ক্যামেরা বাস্তবতার সম্পূর্ণ প্রতিচ্ছবি নয়। এটি বাস্তবতার কিছু অংশ দৃশ্যমান করে, আবার অনেক কিছুই অদৃশ্য থেকে যায়।

ছায়া, স্মৃতি, বিশ্বাস, পূর্বপুরুষের উপস্থিতি কিংবা আধ্যাত্মিক অনুভূতি—এসব সরাসরি ক্যামেরায় ধরা সম্ভব নয়। কিন্তু মোফোকেংয়ের ছবির আলো, অন্ধকার, শরীর, ধোঁয়া ও পরিবেশ সেই অদৃশ্য অনুভূতিগুলোর দিকে দর্শকের দৃষ্টি পরিচালিত করে।

হাইব্রিড সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি

হোমি কে ভাভার ‘হাইব্রিডিটি’ ধারণার আলোতেও এই ছবিগুলোকে দেখা যায়। এই দৃষ্টিতে সংস্কৃতি কোনো স্থির বা সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ বিষয় নয়; বরং বিভিন্ন ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও সাংস্কৃতিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে তার নতুন রূপ তৈরি হয়।

‘চেসিং শ্যাডোস’-এ আফ্রিকান পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য, স্থানীয় নিরাময়প্রথা এবং খ্রিষ্টীয় প্রতীকের সহাবস্থান সেই বাস্তবতার উদাহরণ। কোনো একটি ঐতিহ্য অন্যটিকে পুরোপুরি মুছে দেয়নি। বরং দীর্ঘ সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে একটি পরিবর্তনশীল আধ্যাত্মিক পরিচয়।

ঔপনিবেশিকতার ছায়া ও আত্মপরিচয়ের পুনরুদ্ধার

ফ্রান্তজ ফ্যাননের ঔপনিবেশিকতা-বিষয়ক চিন্তার সঙ্গেও মোফোকেংয়ের কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। ঔপনিবেশিক শাসন শুধু ভূমি, শ্রম ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ন্ত্রণ করে না; মানুষের আত্মপরিচয় ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণাকেও প্রভাবিত করে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে অ্যাপার্টহেইড এই নিয়ন্ত্রণকে আরও গভীর করেছিল। তাই পবিত্র গুহাগুলোকে শুধু ধর্মীয় স্থান হিসেবে দেখলে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কমিয়ে দেখা হয়। এগুলো একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক স্মৃতি ও আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধারের জায়গা।

মানুষ যখন সেখানে পূর্বপুরুষকে স্মরণ করে, গান গায়, প্রার্থনা করে কিংবা ঐতিহ্যবাহী আচার পালন করে, তখন তারা নিজেদের ইতিহাসকেও নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করে। যে বিশ্বাসকে ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গি একসময় ‘অন্য’ বা ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে চিহ্নিত করতে চেয়েছিল, সেটিই এখানে আত্মপরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে ওঠে।

অন্ধকারের মধ্যেই আলোর সন্ধান

‘চেসিং শ্যাডোস’ কোনো হারিয়ে যাওয়া অতীতের স্মারক নয়। বরং এটি এমন একটি সাংস্কৃতিক জগতের উপস্থিতি তুলে ধরে, যা দীর্ঘ ঔপনিবেশিক ও বর্ণবাদী ইতিহাসের মধ্যেও টিকে থেকেছে এবং সময়ের সঙ্গে নতুন অর্থ পেয়েছে।

মোফোকেংয়ের ছবির মানুষগুলো তাই নিছক ইতিহাসের ভুক্তভোগী নন। তাঁরা নিজেদের স্মৃতি, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার সক্রিয় নির্মাতা।

এই কারণেই গুহার অন্ধকার এখানে পরাজয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে না। সেই অন্ধকারের মধ্যেই মোমবাতির আলো, সাদা পোশাক, প্রার্থনামগ্ন মুখ এবং পূর্বপুরুষের স্মৃতি তৈরি করে আত্মমর্যাদার এক আলাদা ভাষা। দীর্ঘ ইতিহাসের ছায়ার মধ্যেও যে বিশ্বাস টিকে থাকে, ‘চেসিং শ্যাডোস’ সেই বিশ্বাসের দৃশ্যমান রূপ হয়ে ওঠে।