রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> দিল্লিতে বিরোধীদের বিক্ষোভ, আটক মমতা-কেজরিওয়ালসহ একাধিক নেতা

>> সিরাজগঞ্জে মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মী আটক

>> আইফোনের সূত্র ধরে তাজমিন হত্যা মামলার তদন্ত, গ্রেপ্তার সিএনজিচালক

>> বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪-এ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে দ্রুত সেবা পাওয়ার দাবি

>> ‘জামায়াতের সেক্রেটারির ৭০০ অটোরিকশা’—ডিএনসিসি প্রশাসকের কাছে প্রমাণ চাইল জামায়াত

>> চাঁদা না দেওয়ায় লেগুনা মালিককে মারধরের অভিযোগ, উল্টো চাঁদাবাজ সাজিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি

>> সীতাকুণ্ডে বিদ্যালয়ের পেছনে মিলল হাত-পা বাঁধা নারীর মরদেহ

>> চট্টগ্রাম কাস্টমসে এসি ওমর ফারুক ও আরও সুমন কান্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও হয়রানির অভিযোগ

>> ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা, নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ

>> সোনাইমুড়ীর সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ

আপনি পড়ছেন : মাগুরা

মাগুরায় শিশুধর্ষণ–হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল


Rabeya ৩১ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১২:৪১



মাগুরায় শিশুধর্ষণ–হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল


মাগুরায় আলোচিত শিশুধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য পাঠানো ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁর করা আপিল খারিজ এবং জেল আপিল নিষ্পত্তি করা হয়েছে। হিটু শেখ ধর্ষণ ও হত্যার শিকার আট বছর বয়সী শিশুটির বড় বোনের শ্বশুর।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও অন্যান্য বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। বেঞ্চটি ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে।

এই বেঞ্চে মাগুরার আলোচিত শিশুধর্ষণ ও হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয় ১১ আগস্ট। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ মামলার পেপারবুক উপস্থাপনের মাধ্যমে শুনানি শুরু করে। পরে ২৩ ও ২৪ আগস্টও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

তিন দিনের শুনানি শেষে ২৫ আগস্ট আদালত রায়ের জন্য ৩১ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছিলেন। নির্ধারিত দিনেই আদালত হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও সৈয়দ ইজাজ করির। আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান শুনানি করেন।

যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা

গত বছরের মার্চের শুরুতে বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল শিশুটি। ৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়।

অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর ৮ মার্চ শিশুটির মা মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে মাগুরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন গত বছরের ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে ১৭ এপ্রিল মামলাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

২০ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়।

বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড

মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয় গত বছরের ১৭ মে। মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মামলার অন্য তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য বিচারিক আদালতের রায়সহ মামলার প্রয়োজনীয় নথি ২১ মে হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। পরে সেটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়।

এদিকে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ২৫ জুন হাইকোর্টে আপিল করেন হিটু শেখ। আপিলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি শেষে ১ জুলাই হাইকোর্ট তা শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতের দেওয়া অর্থদণ্ড স্থগিত করা হয়।

আজ হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিল—তিন বিষয়েই হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত হলো। আদালতের রায়ে তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকল।