তবে ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে খুব বেশি উচ্ছ্বাস প্রকাশের সুযোগ নেই হ্যাজলউডের। কারণ ম্যাচের পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়াই এখন চাপে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান করেছে তারা এবং বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের রান থেকে এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
হ্যাজলউড বলেন, ব্যক্তিগত মাইলফলক অবশ্যই আনন্দের, কিন্তু দলের বর্তমান অবস্থাই এখন তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় বোলিং করার কারণে পেসারদের জন্য কাজটি কঠিন হয়ে উঠেছিল বলেও জানান তিনি। নতুন বলের শুরুতে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগানোর পর বল পুরোনো হয়ে গেলে বোলিংয়ে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়।
প্রথম ইনিংসে মাত্র ৫৩ ওভার ব্যাট করে ১৯৮ রানে অলআউট হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। জবাবে বাংলাদেশ ১৩৮ ওভার ব্যাট করে সংগ্রহ করেছে ৪২৬ রান। দীর্ঘ সময় মাঠে থাকার কারণে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপরও চাপ তৈরি হয়।
হ্যাজলউডের মতে, বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময় আরও বেশি চাপ সৃষ্টি করতে পারলে ফল ভিন্ন হতে পারত। বিশেষ করে টানা কয়েকটি মেডেন ওভার করে রান আটকে রাখার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও শুরুটা স্বস্তিদায়ক হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। চারটি উইকেট হারিয়ে ফেলায় এখন তাদের মূল লক্ষ্য বড় রানের লিড তৈরি করা।
ডারউইনের উইকেট নিয়ে হ্যাজলউডের মূল্যায়ন, এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো। তাই রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণ করে ব্যাটারদের ভুল করানোই বোলারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। নতুন বলের সুবিধা কাজে লাগানোও বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশের বোলারদের প্রশংসাও করেছেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার। তাঁর মতে, নতুন বলে দ্রুত দুটি উইকেট নেওয়ার পর বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মাধ্যমে রান আটকে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলেছে।
বর্তমানে ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ এবং অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত আছেন। এই জুটির ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী পরিকল্পনা।
হ্যাজলউডের আশা, আগামীকাল দিনের বেশির ভাগ সময় ব্যাটিং করতে পারলে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে বড় লিড নিতে পারবে। আর শেষ দিনে বাংলাদেশের ১০টি উইকেট নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে ম্যাচ জেতার সম্ভাবনাও থাকবে বলে মনে করছেন তিনি।
অর্থাৎ, ম্যাচে টিকে থাকতে হলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন একটাই বড় লক্ষ্য—আগামীকাল দীর্ঘ সময় ব্যাট করে বাংলাদেশের সামনে শক্তিশালী লক্ষ্য দাঁড় করানো।